• দালালের খপ্পরে পড়ে বেঘোরে মৃত্যু তরুণীর, রায়গঞ্জের ইন্দিরা কলোনিতে চাঞ্চল্য
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, রায়গঞ্জ: নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ ১৯ বছরের তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জের ইন্দিরা কলোনিতে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ করে পরিবার। উঠে এসেছে দালালচক্রের অভিযোগ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।

    সরকারি হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রেফার করা হয় ইটাহারের সুরুন এলাকার সারজিনা খাতুনকে। প্রেসক্রিপশনে পরিষ্কার লিখে দেওয়া হয়, অগ্নিদগ্ধ তরুণীর আইসিইউ প্রয়োজন। অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজে থাকা এক দালাল তাঁদের 'ভালো চিকিৎসার' আশ্বাস দিয়ে এমন এক নার্সিংহোমে ভর্তি করান, যেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই। বুধবার সকালে জেনারেল বেডে তরুণীর মৃত্যু হলে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভদেখায় পরিবার। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফে অরিজিৎ মিত্র বলেন, 'আইসিইউ আছে কি না, রোগীর পরিবার আমাদের কাছে জানতে চায়নি। এখানে দালালচক্রের কোনও ব্যাপার নেই।'

    বাড়িতে আগুন পোহাচ্ছিলেন সারজিনা। সেই সময়ে কোনও ভাবে তাঁর পোশাকে আগুন লেগে যায়। দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসার পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ি বা কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন চিকিৎসক। পাশাপাশি তাঁকে আইসিইউতে রাখার কথা জানিয়ে দেওয়া হয় পরিবারকে। অভিযোগ, সেই সময়ে হাসপাতাল চত্বরে দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে পরিবার। এক ব্যক্তি 'ভালো চিকিৎসা'-র আশ্বাস দিয়ে মঙ্গলবার সারজিনাকে ইন্দিরা কলোনির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করান।

    পরিবারের দাবি, সরকারি হাসপাতালের রেফার স্লিপে 'আইসিইউ প্রয়োজন' লেখা থাকলেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁকে জেনারেল বেডে রাখেন। বুধবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই নার্সিংহোম চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা তাঁদের ভয় দেখান। মৃতার আত্মীয় হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছিল, এখানে সব ব্যবস্থা আছে। কিন্তু রোগী আইসিইউ পায়নি। ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি। প্রতিবাদ করায় মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়।' পরিকাঠামো না-থাকা সত্ত্বেও রোগীকে ভর্তি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আর এক আত্মীয় খালেক মহম্মদ।

    তাঁর বক্তব্য, 'এটা তো এক প্রকার অপরাধ। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।' এ দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, তরুণীর অবস্থা প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল এবং পরিবারের লোকেরা তাঁদের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক অরূপকুমার দত্ত বলেন, 'রোগী ৪৫-৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিলেন। মৃত্যুর আশঙ্কার কথা পরিবারকে আগেই জানানো হয়।' রায়গঞ্জ মেডিক্যালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, 'হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। দালালের অভিযোগ পেলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।' জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস তদন্তের

  • Link to this news (এই সময়)