এই সময়: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে সুবিধা করে দিয়েছেন সংগঠনের পদত্যাগী সভাপতি অনিকেত মাহাতো। এই অভিযোগ তুলে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁর সঙ্গে সব সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করল আরজি কর আন্দোলনের প্রাথমিক চালিকাশক্তি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট’।
তাঁদের আন্দোলনের চাপেই অনেকটা নতিস্বীকার করে ফ্রন্টের অধিকাংশ দাবিদাওয়া মেনে নিয়েছিল রাজ্য সরকার। থ্রেট কালচার থেকে শুরু করে নানা রকম আর্থিক এবং পরীক্ষা ও পঠনপাঠন সংক্রান্ত দুর্নীতি অনেকাংশে নির্মূল হয়েছে বলে দাবি ফ্রন্টের। কিন্তু সংগঠন মনে করে, আচমকা জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট থেকে পদত্যাগ করে এবং সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ (এসআর–শিপ) ছেড়ে দিয়ে বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা সরকারকে ফেরানোর জন্য ক্রাউড ফান্ডিংয়ের দ্বারস্থ হওয়ায় ফ্রন্টের ভাবমূর্তি ধাক্কা খাচ্ছে। ফ্রন্টের নেতাদের বক্তব্য, আরজি কর আন্দোলনে এত মানুষ যে নিঃস্বার্থ ভাবে ফ্রন্টের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সেই অংশগ্রহণকে অনিকেত অসম্মান করেছেন তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে।
ফ্রন্টের স্পষ্ট অভিযোগ— অনিকেত তৃণমূলকে সাহায্য করছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা না করে এসআর–শিপ ছেড়ে দেওয়া আদতে শাসকদলকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা। প্রসঙ্গত, আরজি করে অনিকেতের ন্যায্য পোস্টিংয়ের পক্ষে প্রথমে হাইকোর্টের সিঙ্গল ও ডিভিশন বেঞ্চ এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও স্বাস্থ্য দপ্তর সেই মতো পোস্টিং অর্ডার বের করেনি। দু’সপ্তাহের সুপ্রিম সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে হতাশ অনিকেত ঘোষণা করেন, পরে যদি সরকার ন্যায্য পোস্টিংয়ের অর্ডার দেয়ও, তিনি এসআর হিসেবে আরজি করে কাজে যোগ দিয়েও পদে পদে হেনস্থার শিকার হবেন সরকারি প্রতিহিংসার কারণে। তাই ফ্রন্টের সদস্যপদ ও সভাপতিত্বের পাশাপাশি এসআর–শিপ ছেড়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার পরেই সরকার আরজি করে পোস্টিংয়ের অর্ডার বের করে। যদিও অনিকেত তা গ্রহণ করেননি।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের পদত্যাগী সভাপতির এবং ফ্রন্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়া, অর্ণব মুখোপাধ্যায়, পুলস্ত্য আচার্যরা। তাঁরা জানান, ফ্রন্টকে আখেরে কালিমালিপ্ত করেছেন অনিকেত। তাই তাঁরা সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। অনিকেতের পাল্টা বক্তব্য, ‘পদত্যাগ করে তো আমি আগেই সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম। ওঁরা কী করে এখন সম্পর্ক ছিন্ন করবেন!’ তাঁর দাবি, এগজি়কিউটিভ কমিটি তৈরির আইনি সংস্থান ও অগণতান্ত্রিক নির্বাচন— যে দু’টি প্রশ্নে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন, তার উত্তর এখনও দিল না ফ্রন্ট!