ব্লক, অঞ্চল, জেলা, TMC-র ৩ সভাপতির চূড়ান্ত অশান্তি, অভিষেকের সভার আগে
আজ তক | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আগামিকাল ১৬ জানুয়ারি মেদিনীপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা সভা। সেই সভাকে কেন্দ্র করে যখন গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রস্তুতির ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক তখনই চন্দ্রকোণা-১ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করল। অভিষেকের সভার আগেই চন্দ্রকোনায় প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে ব্লক সভাপতির একক সিদ্ধান্তে অঞ্চল সভাপতি বদলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে জড়ায় শাসকদলের দুই পক্ষ। চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের লক্ষ্মীপুর অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে । নতুন সভাপতি গৌতম মল্লিকের সঙ্গে পুরনো সভাপতি মফু সরকারের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ মফু সরকারের নেতৃত্বে নতুন সভাপতি গৌতম মল্লিককে মারধর করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় নেতৃত্বকে। তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি জানিয়েছেন, রাজ্যস্তরের অনুমোদন ছাড়া জেলা বা ব্লকের কোনও স্তরেই সংগঠনের রদবদল করার এক্তিয়ার ব্লক সভাপতির নেই। সূর্যকান্তবাবুর করা এই রদবদলকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে অজিতবাবু সাফ জানান যে, পুরনো সভাপতিরাই তাঁদের পদে বহাল থাকবেন।
জানা যাচ্ছে , চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের সভাপতি সূর্যকান্ত দোলই লক্ষীপুর,জাড়া, মাংরুল তিনটি অঞ্চলের সভাপতিদের পরিবর্তন করে। সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছিল চরমে। তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতি জানান এই পরিবর্তন সম্পূর্ণ অবৈধ। ব্লক সভাপতিদের এই ধরনের পরিবর্তনের কোন এক্তিয়ার নেই। তাই পুরনো সভাপতিরা সমস্ত জায়গায় বহাল থাকবে। এই ঘোষণার পরেই উত্তেজনা বাড়ে বলে তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ। লক্ষ্মীপুর অঞ্চল তৃনমূল কার্যালয়ে, নতুন ব্লক সভাপতি গৌতম মল্লিককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
তবে এ বিষয়ে ব্লক সভাপতি সূর্যকান্ত দোলইকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন বুথ স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আমি পরিবর্তন করেছি। পরবর্তীকালে যা ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে যা বলার জেলা সভাপতি বলবেন। সূর্যকান্ত দোলইয়ের বক্তব্য, '২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সমস্ত স্তরের কর্মীদের নিয়ে যেটা করার করেছিলাম। পরবর্তী পর্যায়ে যেটা ঘটেছে তার উত্তর জেলা সভাপতি দেবেন।' এদিকে গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কোনও তরফেই কেউ অভিযোগ করেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।