• সাবধানী জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর, কাটোয়ায় এল কেন্দ্রীয় দল
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান, কালনা ও কাটোয়া: 'নিপা' ভাইরাস নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে নির্দেশ আসার পরেই কাটোয়ার বাসিন্দা, ওই নার্সের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা আরও বেশি করে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। আগে জানানো হয়েছিল, আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা ৪৮। সেই সংখ্যা এ দিন বেড়ে দাঁড়ায় ৮২। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, 'আক্রান্ত ওই নার্সের সংস্পর্শে আসা লোকের সংখ্যা মঙ্গলবার ছিল ৪৮। এ দিন তা বেড়ে ৮২ হয়েছে। আক্রান্ত নার্সের চিকিৎসার সময়ে তাঁর সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তাঁদের খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।'

    সূত্রের খবর, মেমারি-১ ব্লকের দেবীপুর এলাকার একজন হাউসস্টাফ ও হাসপাতালের এক নার্সের শরীরে 'নিপা' ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে হাউসস্টাফ বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি। জয়রাম বলেন, 'দেবীপুরের ওই হাউসস্টাফ ও নার্সকে আমরা এখানেই রেখেছি। চিকিৎসা চলছে তাঁদের। সকলেই সুস্থ আছেন। এঁরা কেউ নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নন।' 'নিপা' আক্রান্ত তরুণীর পরিস্থিতি জানতে বুধবার বিকালে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল আসে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) পুনের একটি দল।

    আক্রান্ত তরুণী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময়ে কী ধরনের উপসর্গ ছিল, কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, যে বিছানায় তাঁকে রাখা হয়েছিল তা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, কোন চিকিৎসক তাঁর পরীক্ষা করেন, সব তথ্যই চান তাঁরা। পাশাপাশি কাটোয়ায় হোম কোয়ারান্টিনে থাকা প্রত্যেকের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল মঙ্গলকোটে ওই আক্রান্তের বাড়িও যান এ দিন। মঙ্গলকোট নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতাল একটি হেল্প লাইন নম্বর চালু করেছে। গ্রামে আক্রান্তের আত্মীয়দের ওই মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলকোটের পালিগ্রাম এলাকায় একটি বট গাছে দীর্ঘদিনের বাস এক ঝাঁক বাদুড়ের।

    'নিপা' আবহে কিছুটা হলেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সেখানে। স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ মণ্ডল বলেন, 'অনেকদিন ধরে ওরা আছে। তবে এই মুহূর্তে নিপা সংক্রমণের খবর পড়ার পরে একটু তো ভয় লাগছেই।' তিনি যোগ করেন, 'এই বাদুড়রা এলাকার বিভিন্ন গাছেরই ফল খেয়ে থাকে। আধখাওয়া ফল পড়েও থাকে মাটিতে। সেটা নিয়ে এখন চিন্তা হচ্ছে।' গ্রামের আর এক বাসিন্দা তন্ময় চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'ভয় লাগলেও এই বাদুড়ের দল এই অঞ্চলে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এত দিন পর্যন্ত যখন বড় কোনও সমস্যা হয়নি, এখনও হবে না বলেই আশা করা যায়।' 'নিপা'-আবহে তেমন উদ্বেগের ছায়া অবশ্য দেখা যায়নি কালনায়।

    কালনা-২ ব্লকের কাদিপাড়ায় একটি বিশাল তেঁতুল গাছে প্রচুর বাদুড় রয়েছে দীর্ঘকাল থেকে। এই ছবি দেখতেই অভ্যস্ত গ্রামবাসী। কিন্তু 'নিপা' ভাইরাস সংক্রমণের খবর চাঞ্চল্য তৈরি করলেও এই গ্রামের মানুষ তা নিয়ে ভাবিত নন। গ্রামের বাসিন্দা মৃণালকান্তি পাল বলেন, 'আমাদের গ্রামে বাদুড় থেকে কেউ কখনও সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুনিনি। নিপা ভাইরাস নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।'

  • Link to this news (এই সময়)