• বঙ্গে ১০০ দিনের কাজ কেন চালু হয়নি: উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: গত বছর মামলার নিষ্পত্তি করে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও বাংলায় ১০০ দিনের কাজ চালু হয়নি। তার জন্য আবারও মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাতে বিচলিত কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, হাইকোর্ট চায় যে, ১০০ দিনের কাজের টাকা শ্রমিকদের হাতে যাক। যত দ্রত সম্ভব গরিব মানুষ যাতে টাকা পান, সেই উদ্দেশ্যেই আদালত শুনানি করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, ‘যাঁরা ১০০ দিনের কাজ করেন, তাঁরা গরিব। তাই, তাঁদের জন্য টাকার ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    মামলায় একদিকে ওই কাজ ফের শুরুর দাবি যেমন জানানো হয়েছে, অন্য দিকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে সরঞ্জাম সরবরাহ করে টাকা পাননি, এমন অভিযোগে মামলা করেছেন ঠিকাদাররা। শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে হাইকোর্ট হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।

    রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি এ দিন অভিযোগ করেন, বার বার চাওয়া সত্ত্বেও ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না। ওই প্রকল্পে কাজ চালু রাখতে রাজ্যে নিজের কোষাগার থেকে খরচ করছে। তাই, রাজ্যকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বলে দাবি করেন রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই মামলায় রাজ্যের যুক্ত হওয়ার কোনও অধিকার নেই। কেন্দ্রীয় সরকারকে এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান জানিয়ে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ফেব্রুয়ারি। মূল মামলাকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, ২০২৫–এর ১ অগস্টের মধ্যে ১০০ দিনের বন্ধ থাকা কাজ ফের চালু করতে হবে। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ মানা হয়নি। রাজ্য ও কেন্দ্রের লড়াইয়ে ১০০ দিনের কাজ ফের চালু হতে পারছে না এবং তাতে গরিব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মূল মামলাকারীদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ জানিয়েছেন।

    রাজ্য সরকারের কৌঁসুলির অভিযোগ, বার বার আবেদনের করার পরেও কেন্দ্র বকেয়া টাকা দিচ্ছে না, কেবল নথির আদান–প্রদানই হচ্ছে। তাই, বাধ্য হয়েই রাজ্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের কৌঁসুলির অভিযোগ, কেন্দ্রের দেওয়া অর্থ এবং রাজ্যের খরচ করা অর্থের মধ্যে প্রচুর গরমিল রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়, আগে এই মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ দোষীদের শাস্তি ও তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেয়।

  • Link to this news (এই সময়)