জয়দেব মেলা দেখতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বীরভূমের সিউড়িতে। বৃহস্পতিবার ভোরে চলন্ত বাসের ইমার্জেন্সি দরজা খুলে পড়ে গেল এক শিশু। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার প্রতিবাদে জনবহুল এলাকায় বেপরোয়া বাস চালানোর অভিযোগে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সূত্রের খবর, মৃত শিশুর নাম সূর্য দাস (৬)। তার বাড়ি মহাম্মদবাজার থানার অন্তর্গত কাপিষ্ঠা গ্রামে। এ দিন দাদু ও দিদার সঙ্গে সূর্য জয়দেবের মেলা দেখতে যাচ্ছিল। প্রথমে তাঁরা সিউড়িতে এসে বাসে ওঠেন এবং সেখান থেকে জয়দেবের মেলায় যাচ্ছিলেন। বাস রবীন্দ্রপল্লি এলাকায় পৌঁছতেই ঘটে বিপত্তি। আচমকা বাসের ইমার্জেন্সি দরজা খুলে যায় এবং বাস থেকে পড়ে যায় সূর্য।
পরিবারের দাবি, সূর্য বাস থেকে পড়ে যাওয়ার পরে তার দাদু ও দিদা চিৎকার করে ওঠেন। কিন্তু, অভিযোগ চালক বাস থামাননি। ফলে বাসের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিশুর। সূর্যর পরিবারের তরফে বাসের চালক ও খালাসির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকা। জববহুল এলাকায় বেপরোয়া ভাবে বাস চালানোর প্রতিবাদে এই এলাকার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছয় সিউড়ি থানার পুলিশ। পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেন এলাকাবাসী। ঠিক তার পরেই আবারও একটি দুর্ঘটনা ঘটে ওই এলাকায়। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী বোঝাই একটি ই-রিক্সাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে আরও একটি বাস। বাসের ধাক্কায় যাত্রী সহ উল্টে যায় ই-রিক্সা। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক শিশু-সহ চারজন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আপাতত তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন।
বীরভূম জেলা INTTUC-র সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবুলাল বলেন, ‘সিউড়ির রাস্তায় সরকার থেকে গতি বেধে দেওয়া হয়েছে। তবুও অনেক গাড়ির কিছু চালক নিয়ম মানেন না। এর সঙ্গে খারাপ রাস্তাও কিছুটা দায়ী।’