• নির্বাচনের ঠিক আগেই কেন ইডি'র তল্লাশি? প্রশ্ন কোর্টে
    আজকাল | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৮ জানুয়ারি। তোলপাড় হয়েছিল কলকাতা। গত বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত ভোটকৌশলী সংস্থা আই-প্যাক-এর দপ্তর এবং কর্ণধারের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। ঘটনার পরেই ময়দানে নামেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। প্রথমে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং পরে সল্টলেকের দপ্তরে যান। ইডি'র অভিযোগ ছিল, তদন্ত চলাকালীন একাধিক নথি নিয়ে চলে যান তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ প্রশাসনিক প্রধান। ঘটনার  প্রতিবাদে পথে নামেন মমতা নিজে, নামান গোটা দলকেও।

    ঠিক এক সপ্তাহ পর, দেশের শীর্ষ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে এই আই-প্যাক মামলার। মুখোমুখি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সুপ্রিমকোর্টে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে সওয়াল-জবাব পর্ব। সুপ্রিম কোর্ট শুনানির শুরুতেই ইডি'র কাছে জানতে চায়, কেন প্রতীক জৈনের বাড়ি-দপ্তরে তল্লাশি, কিসের তদন্তে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা? ইডি জবাবে জানায়, অবৈধ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক-এ তল্লাশি গত বৃহস্পতিবার একাধিক জায়গায় হানা দেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

    যদিও বাংলার শাসক দলের সুপ্রিমো ঘটনার দিন থেকেই বারে বারে অভিযোগ করেছেন, যেহেতু আই-প্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশল ঠিক করে দেওয়া দল, তাই ভোটের আগে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মাধ্যমে বাংলার শাসক দলের এসআইআর তথ্য-সহ নানা স্ট্র্যাটেজি এককথায় 'ট্রান্সফার' করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, ইডি তদন্ত অভিযান শুরু করার প্রায় ৫ ঘণ্টার বেশি সময় পরে সেখানে পৌঁছন মমতা ব্যানার্জি। 

    এই বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় সুপ্রিম শুনানিতে কবিল সিব্বল একই কথা বলেন। সওয়াল-জবাব পর্বে এদিন তিনি প্রশ্ন করেন, 'আইপ্যাক-এর কাছে রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। যখন ইডি সেখানে গিয়েছিল, তখন তারা জানত যে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সেখানে থাকবে।' প্রশ্ন হঠাৎ নির্বাচনের প্রাক্কালে কেনই বা ইডি'র তৎপরতা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কয়লা মামলা নিয়ে শেষ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারপরে কেন আবার ২০২৬ সালে, ঠিক রাজ্যের ভোটের মুখে তদন্ত?  

    এর আগে মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে গিয়েছিলেন আই-প্যাকের অফিসে। অর্থাৎ বারবার যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেছিলেন? সেই প্রশ্নের সাফ জবাব দিয়েছিলেন মমতা। এদিন কপিল সিব্বলও বলেন, 'দলের চেয়ারম্যানের সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার ছিল। যদি ভিডিয়ো দেখানো হয়, তবে কে মিথ্যে বলছে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কেন ইডি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের সেই অংশে ঢুকল, যেখানে দলের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে? মুখ্যমন্ত্রী নাকি সব ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।' সঙ্গেই তিনি জানান, 'দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি—এ কথা পঞ্চনামাতেই লেখা আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি ল্যাপটপ, একটি আইফোন নিয়েছিলেন—এর বাইরে আর কিছুই নেওয়া হয়নি। তল্লাশির সময় কোনও বাধা তৈরি করা হয়নি।'

    শুনানিতে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভী সওয়াল করেন, 'তল্লাশি শুরু হয়েছিল ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে। আর ইমেল পাঠানো হয়েছিল তার অনেক পরে, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। ওই ইমেল পাঠানোটা ছিল আসলে পরে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা।' ইডি পুলিশের বিশাল বাহিনীর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন করে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, রাজীব কুমার-সহ ওই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার কথা বলেন আদালতে।  যদিও তার উত্তরে আইনজীবী সিঙ্ঘভী বলেন, 'কিছু অচেনা লোক ওই জায়গায় ঢুকেছে এই খবর শুনে সেখানে গিয়েছিলেন ডিজিপি। ' 

     
  • Link to this news (আজকাল)