আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের নাগরিক হওয়ার বৈধ নথি হিসেবে দেখানো যাবে না মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বৈধ নথির তালিকায় পড়ছে না।
এক বিবৃতি মারফত নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রসঙ্গে জানানো হচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর আগে কমিশনের পক্ষ থেকে গত ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী যাচাইয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) অ্যাডমিট কার্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ফলে, নতুন করে বিবেচনা করার পরেও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব মঞ্জুর করা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, এসআইআরের শুনানির সময় প্রথমে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে সিইও দফতর থেকে বলা হয়, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে জন্মের তারিখ রয়েছে। ফলে, শুনানিতে সেটি গ্রহণ করা যাবে কিনা তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
সেই মতো জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে আবেদন জানানো হয় রাজ্যের সিইও দফতর থেকে। কিন্তু এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হল মাধ্যমিকের নথি বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পর ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৩২ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১১,৪৭২ জন ভোটার বৈধ নথি জমা দিতে পারেননি। কমিশনের প্রকাশ করা তালিকায় এই ভোটারদের ‘অবৈধ’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, আনম্যাপড শুনানি পর্ব ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। এই পর্বে যাঁদের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, সেই ৩২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ ব্যক্তি সরাসরি শুনানি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছেন।
তবে বাকি প্রায় ৮ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন।
এর পাশাপাশি, প্রশাসনিক স্তরে কাজের চাপ সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার নিয়োগের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
তার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে প্রায় ১,৬০০ জন অ্যাডিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।