কেন্দ্রের অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে। যাকে বাংলা ও বাঙালি-বিদ্বেষী সিদ্ধান্ত বলেই দাগিয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। আগামী ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মদিন ও সরস্বতী পুজোর একই দিনে থাকা সত্ত্বেও সেই দিনই সিদ্ধান্ত হয়েছে সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স (JEE Main-2026) পরীক্ষার তারিখ ফেলা হয়েছে। ওই দিনেই প্রবেশিকা পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিন ধার্য করা অমানবিক বলে দাবি করেছেন বাংলার মানুষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রকে বাঙালি-বিদ্বেষী বলে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল।
এই বিষয়ে আজকাল ডট ইন সরাসরি কথা বলেছে তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, “বিজেপি আরও একবার প্রমাণ করে দিল তাদের ভণ্ডামি। প্রথমত নেতাজির জন্মদিনে জাতীয় ছুটির দাবি করা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু কোনও কর্ণপাত করেনি কেন্দ্র। আর এই জয়েন্ট পরীক্ষা সর্বভারতীয় পরীক্ষা, যেহেতু নেতাজি সুভাষ বোসের জন্মদিন জাতীয় ছুটি নয় আর এরা বাঙালিকে সম্মান দেয় না তাই ওই দিন এই পরীক্ষা ফেলেছে। দ্বিতীয়ত, ওই একই দিনে সরস্বতী পুজো রয়েছে। সে কথা বিজেপি কী করে ভুলে যেতে পারে! আসলে বিজেপি বা কেন্দ্র সরকার রাজনীতি করার জন্য মাঝে মধ্যেই বলে দেয় পশ্চিমবঙ্গে সরস্বতী পুজো করা যায় না। আদতে এই কেন্দ্র সরকার বা বিজেপি সরস্বতী পুজোটাকে মান্যতা দেয় না। তাই ২৩ জানুয়ারি এই প্রবেশিকা পরীক্ষার দিন ফেলেছে। আসলে বিজেপি বা কেন্দ্র সরকারের কাছে সরস্বতী পুজো কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় প্রমাণিত হল। মূলত এদের এই ভণ্ডামি আর দ্বিচারিতা তা প্রকাশ্যে চলে এল এবং প্রমাণ করে দিল।”
সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী সরাসরি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “সত্যি এটা শুনে আমি স্তম্ভিত। ২৩ জানুয়ারি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার দিন বহুবার আবেদন করা হয়েছে কেন্দ্রের কাছে। কিন্তু দিল্লিওয়ালারা তা কখনও মানে না কারণ তারা নেতাজী-বিরোধী, বাঙালি-বিরোধী এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ এবার ওই দিনেই পরীক্ষা ফেলল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা। আর ওই দিনই একই সঙ্গে সরস্বতী পুজোও বটে। আসলে বিজেপি বা কেন্দ্র সরকার ধরা পড়ে গিয়েছে যে তারা অপদার্থ ও অপরাধী। আর এবার পরীক্ষা ফেলে আরও একবার সেটা প্রমাণ হয়ে গেল ও ধরা পড়ে গেল।”
জয়েন্টের প্রবেশিকার তারিখ বিতর্ক বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন চিফ হুইপ মনোজ টিগ্গার সঙ্গে। তিনি বলেন, “বিজেপি কখনওই বাঙালি বিদ্বেষী নয়। তৃণমূল আসলে চাইছে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আসন্ন ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য নানারকম রাজনীতি করছে। এবার আর এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করে ভোটের বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। মানুষ ধরে ফেলেছে। তৃণমূল রাজনীতির জন্য যতটা নীচে নামতে পারে, নামতে চাইছে। আর তাই এগুলি করছে। এই জন্যই বিজেপি বাঙালি-বিদ্বেষী, একটা ন্যারেটিভ তৈরি করে মনগড়া চিন্তাভাবনা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে এবং চাপিয়ে দিতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার বিষয়ে কেন্দ্র চিন্তাভাবনা করেই দিন স্থির করেছে। এটা সর্বভারতীয় পরীক্ষা, শুধু বাংলায় এই পরীক্ষা নয়। কাজেই কেন্দ্র সবদিক দেখে ভেবেচিন্তে তবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যে রাজ্যে তৃণমূল সরকার সরস্বতী পুজো করতে দেয় না, বাধার সৃষ্টি করে, স্কুলের হেডমাস্টারকে পুজো না করার জন্য ভয় দেখায় তাদের মুখে এসব কথা মানায় না।”
প্রসঙ্গত, জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেইনস, ২০২৬, সেশন–১-এর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র, শহর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে এবং ভারতের বাইরে মোট ১৫টি শহরে সেশন–১ অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে একাধিক দিনে ও একাধিক শিফটে। যাতে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, B.E./B.Tech (Paper-1) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। এই পরীক্ষাগুলি প্রতিদিন দু’টি শিফটে নেওয়া হবে। প্রথম শিফট সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা, দ্বিতীয় শিফট বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। অন্যদিকে, B.Arch ও B.Planning (Paper-2A ও 2B) পরীক্ষাগুলি অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬। এই দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে একটিমাত্র শিফটে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীরা তাঁদের নিজস্ব লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এনটিএ-র সরকারি ওয়েবসাইট jeemain.nta.nic.in থেকে Examination City Intimation Slip ডাউনলোড করতে পারবেন। অ্যাডমিট কার্ড ছাড়া হয়নি এখনও, শীঘ্রই সেই তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। এই তথ্য ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই উপলব্ধ। সর্বশেষ আপডেটের জন্য পরীক্ষার্থীদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।