• 'জঙ্গলরাজ চলছে', ফরাক্কার ঘটনায় জ্ঞানেশকে নালিশ শুভেন্দুর 
    আজ তক | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • ফরাক্কায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন মাইক্রো অবজার্ভারদের ওপর হামলার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একদল দুষ্কৃতীর আক্রমণের মুখে পড়েন এসআইআর-এ নিযুক্ত আধিকারিকরা। ঘটনায় দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করলেও ওই আধিকারিকদের জন্য কোনও পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। 'না পুলিশ ছিল, না কোনও রকম সুরক্ষা, পুরোপুরি অসহায় অবস্থায় তাঁদের ফেলে রাখা হয়েছিল,' বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    শুভেন্দুর দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ কার্যত ‘মহা জঙ্গলরাজে’ পরিণত হয়েছে বলে কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, 'এখন এমন পরিস্থিতি যে নির্বাচন সংক্রান্ত আধিকারিকরাও আর নিরাপদ নন।'

    নির্বাচন কমিশনের তরফে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ বিজেপির। এই অবস্থায় ফারাক্কার মাইক্রো অবজার্ভাররা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে সম্মিলিতভাবে এসআইআর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শুভেন্দুর মতে, এই সিদ্ধান্তই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা স্পষ্ট করছে।

    এসআইআর প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতেই শাসক দল পরিকল্পিত ভাবে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, ভোটার তালিকায় কারচুপি করতেই এমন অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় টিকে থাকতে তৃণমূল অসৎ উপায়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে চাইছে।

    এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অনুরোধ করেছেন বিরোধী দলনেতা। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবিলম্বে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্য প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার দাবি তুলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, 'ভয়মুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন, না হলে গণতন্ত্রই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।'

    এদিকে, ফরাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় জঙ্গিপুর থানায় বিডিওর পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এফআইআরে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বা তাঁর সঙ্গে থাকা কোনও তৃণমূল নেতার নাম না থাকায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

     
  • Link to this news (আজ তক)