বিশ্বজিত মিত্র: সি এ এ–তে আবেদন করেও এখনও সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়ায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের এক বড় অংশ। এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। অভিযোগ,তাঁদের অধিকাংশই সিএএ–তে আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পাননি। ফলে হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে বহু পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় সিএএ চালু হওয়ার আগেই বিধায়ক ও সাংসদদের বাড়িতে বিশেষ ক্যাম্প করে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ক্যাম্পে বহু মানুষ আবেদন করলেও এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আবেদন প্রক্রিয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা । ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই,তাঁদের আশঙ্কা—এবারও নাম না থাকলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র। বিজেপির দাবি, সিএএ–তে আবেদন করলেই স্বাভাবিকভাবে ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে এবং যাঁরা এখনও পাননি, তাঁরাও খুব শীঘ্রই হাতে পাবেন। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও ভবিষ্যতে ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে বলেও দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত আশ্বাসকে “ভাঁওতা” বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, সিএএ ও ভোটার তালিকার মধ্যে সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই এবং সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিজেপি ও তৃণমূল—দুই শিবিরের বিপরীতমুখী বক্তব্যের মাঝে পড়ে বিপাকে পড়েছেন ওপার বাংলা থেকে আসা সাধারণ মানুষজন। হাতে আর কয়েকটা মাস,তারপরেই বিধানসভা নির্বাচন। এই অবস্থায় কী করবেন, কোন পথে হাঁটবেন—তা বুঝে উঠতে পারছেন না আতঙ্কগ্রস্ত এই সমস্ত পরিবার।
মতুয়া মহা সংঘের সদস্য রঞ্জিত বাইন বলেন, এসআইআর যেমন হচ্ছে তেমনই সিএএ-র ফর্ম ফিলআপ হওয়ার কতা। এসডিও অফিস, বিডিও অফিসে তা হবে। কিন্তু শান্তনু ঠাকুর তা করাচ্ছেন। তাঁকে কী অমিত শাহ দায়িত্ব দিয়েছেন। নাকি তিনি এর কনট্যাক্ট নিয়েছেন! গোটা দেশেই তা হওয়ার কথা। এভাবে একজন এটা করাবেন কেন?