• SIR শুনানি থেকে ফিরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন, দক্ষিণ দিনাজপুরে চাঞ্চল্য
    আজ তক | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের মির্জাপুর গ্রামে ৬৬ বছরের ফয়েজদ্দিন সরকারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এখন এলাকাজুড়ে চাপা ক্ষোভ। পরিবার দাবি করছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত SIR শুনানির চাপ ও শারীরিক ধকলই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ফয়েজদ্দিন সরকারের কাছে সম্প্রতি শুনানির নোটিশ আসে। সেই নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে চাপের মধ্যে ছিলেন। পরিবার বলছে, “বাবা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। বারবার বলতেন, এবার ভোটটা নষ্ট হয়ে গেল।”

    নির্ধারিত শুনানি ছিল মঙ্গলবার। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি তপন ব্লক কার্যালয়ে হাজির হন। অভিযোগ, সেখানে প্রবল রোদে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁকে। শুনানি শেষ করে বাড়ি ফেরার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তপন গ্রামীণ হাসপাতাল এবং পরে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

     “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু” পরিবারের দাবি
    মৃতের ছেলে ওয়াসিম সরকারের বক্তব্য, “বাবা অনেকদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতেই বুকে ব্যথা শুরু হয়। এরপরই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।” ঘটনার পর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, শুনানির দিনে বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি?

    বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। তৃণমূলের তপন ব্লক সভাপতি সুব্রতরঞ্জন ধর বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এই হয়রানির শিকার হয়ে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারালেন।”

    দক্ষিণ দিনাজপুর বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায় পাল্টা বলেন, “এটি বার্ধক্যজনিত মৃত্যু। তৃণমূল অযথা রাজনৈতিক রং লাগাতে চাইছে।” প্রশাসনিক প্রশ্ন: বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা কোথায়? ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্বে বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য আলাদা সহায়তা বা মানবিক ব্যবস্থা কেন করা হয়নি। তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, “চেয়ার, ছায়া, জল, অন্তত এগুলো থাকলে হয়তো পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।”

     
  • Link to this news (আজ তক)