• কোথাও আঙুলে কালির পরিবর্তে মার্কার পেন, কোথাও বুথ-বদল! মহারাষ্ট্রের পুরভোটে গুচ্ছ অনিয়মের অভিযোগ
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • মুম্বই: একরাশ বিতর্ক আর অভিযোগের পাহাড় নিয়েই শেষ হল বৃহন্মুম্বই (বিএমসি) সহ মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভার ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নানা অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলার খবর আসতে থাকে বিভিন্ন বুথ থেকে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয় ভোটের কালি ঘিরে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটাদের আঙুলে কালির পরিবর্তে সাধারণ মার্কার পেন ব্যবহার করা হয়। সহজেই উঠে যাচ্ছে এই কালি। তা তুলে অনেকেই আবার ভোট দিচ্ছেন। এভাবে ভোটগ্রহণকে প্রহসনে পরিণত হয়েছে। মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ থ্যাকারের অভিযোগ, ‘ভোটে জিততে সরকার পুরো প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। এটা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষ্মণ নয়। ক্ষমতার অপব্যবহারের একটা সীমা আছে। নির্ধারিত কালির পরিবর্তে মার্কার পেন ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা জালিয়াতি।’ আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব থ্যাকারে বলেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। 

    পুনেতে বিজেপির একটি পার্টি অফিস থেকে ভোটের কালি মোছার ক্লিনারও মিলেছে। এই ঘটনা সামনে এনেছেন উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের দল এনসিপির স্থানীয় এক কর্মী। বিজেপির পার্টি অফিস থেকে কয়েক বোতল কালি মোছার রাসায়নিক পেয়েছেন বলে দাবি করেন এনসিপি নেত্রী রূপালি চাকানকার। তিনি বলেন, ‘পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

    অনেকের আবার ভোট দিতে না পারার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের কারও দাবি তালিকায় নাম নেই। কারও আবার দাবি, তাঁদের বুথ বদলে দেওয়া হয়েছে। যেমন মহারাষ্ট্রের বনমন্ত্রী এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা গণেশ নায়েক। নভি মুম্বইয়ের স্কুল নম্বর ৯৪-তে ভোট দিতে গিয়ে তিনি দেখেন নাম নেই। মন্ত্রীকে জানানো হয়, সেন্ট মারি হাইস্কুলের বুথে তাঁর ভোট রয়েছে। সেখানে গিয়েও নিজের বুথের হদিশ পাননি তিনি। এর জন্য সরাসরি তিনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে দুষেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার মতো মন্ত্রীর যদি এই অবস্থা হয়, সাধারণ ভোটারদের অবস্থা কতটা দুর্বিসহ, তা বোঝাই যায়।’ 

    বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)-র পক্ষ থেকে অবশ্য কালি উঠে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। তবে বিষয়টির তদন্তেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক দীনেশ টি ওয়াঘমারে বলেন, কালি শুকোতে কিছুটা সময় লাগে। তবে একবার হাতে বসে গেলে তা তোলা সম্ভব না। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করতেই কালি ওঠার ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। মন্ত্রীর ভোট দিতে না পারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকসভা বা বিধানসভার বুথের সঙ্গে পুরভোটের বুথের তফাত হতেই পারে। 
  • Link to this news (বর্তমান)