নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না ইডি: সুপ্রিম কোর্ট, আইপ্যাক মামলায় দু’পক্ষেরই জবাব তলব, ৩ তারিখ শুনানি
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘দুর্নীতির তদন্তের নামে কোনও রাজনৈতিক দলের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারে না ইডি। কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সির সেই অধিকারই নেই।’ আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্যে ইডিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল সুপ্রিম কোর্ট। গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি-অফিসে তল্লাশিতে বাধা পাওয়ার অভিযোগে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। দাবি তুলেছিল সিবিআই তদন্তের। শুনানিতে সেই বিষয়েও নির্দেশ কিছু দেয়নি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ। তবে আদালত কিছু প্রশ্নও তুলেছে। তারা জানিয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে রাজ্য পুলিস বাধা দিলে, বা তদন্তে গতিরোধ করলে সেই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা বাড়তে পারে। এভাবে চলতে থাকলে বিষয়টি কোন দিকে যাবে? বিষয়টি ‘সিরিয়াস’। আমরা চিন্তিত। তাই ইডির মামলা গ্রহণ করছি।’ আদালতের সাফ কথা, ‘কোনও তদন্তকারী সংস্থাকেই তার প্রকৃত তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া যায় না।’ তবে আইপ্যাকের ঘটনায় কেন বাধা দেওয়া হল, তা নিয়ে বিবাদীদের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস ইস্যু করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা, ডিসিপি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কে তাঁদের বক্তব্য জানাতে হবে। গোড়ায় আগামী তিনদিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা আদালত বললেও মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিবালের অনুরোধে সেটি বাড়িয়ে দু’সপ্তাহ করা হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি। বিবাদীরা জবাব দিলে ইডিকেও পালটা জবাব দিতে হবে।
কলকাতা হাইকোর্টে যখন একই মামলা চলছে, তাহলে সুপ্রিম কোর্টে কেন আবেদন ইডির? প্রশ্ন তোলেন রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং রাজীব কুমারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। বিবাদীদের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্যাম দিওয়ানও উপস্থিত ছিলেন। সিংভির সওয়াল, গত ৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তল্লাশি শুরু হয়েছিল সকাল ৬-৪০ মিনিটে। অথচ পুলিসকে তা জানানো হয়েছে বেলা সাড়ে ১১টায়। ই-মেলে। কপিল সিবালের প্রশ্ন, ‘ইডি আদালতের আবেদনে তদন্তের কাজে বাধার দাবি তুলেছে। অথচ পঞ্চনামায় (দিনের দিন তৈরি করা তদন্তের একটি সংক্ষিপ্তসার) বলা হয়েছে, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ কাজ হয়েছে। কোনও বাধা আসেনি। তাহলে ইডির এই দ্বিচারিতা কেন? কেনই বা ঠিক ভোটের আগে?’ সিবাল বলেন, ‘আমার মক্কেল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নন, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারর্পাসন হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাও বেলা ১২টায়। দলের নির্বাচনি স্ট্র্যাটেজির জন্য আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ফলে ইডি যে সেই গোপন নথি হাতাতে যায়নি, গ্যারান্টি কে দেবে?’
এদিন আবেদনকারী ইডির হয়ে সওয়াল করেন দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। বলেন, ‘এই প্রথমবার নয়। এর আগেও চিটফান্ড মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন। এভাবে চলতে পারে না।’ যদিও বিচারপতি মিশ্র জানতে চান, ‘গত ৮ জানুয়ারি কী করতে গিয়েছিলেন, সেটা বলুন। কীসের তদন্ত?’ তুষার মেহতার জবাব, ‘কয়লা পাচার। ২ হাজার ৭৪২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার দুর্নীতি। ২০ কোটি টাকা হাওলার মাধ্যমে কলকাতা থেকে গোয়া গিয়েছিল। প্রতীক জৈন এই কাজে সাহায্য করেছেন। তাই তল্লাশি। অথচ সেই কাজে শুধু বাধাই দেওয়া হয়নি, ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিস এফআইআরও করেছে।’
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে সেদিন তল্লাশির ঘটনা, প্রতীক জৈনের বাড়ির আশেপাশ এলাকার ভিডিও ফুটেজ ও ক্যামেরা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কলকাতা পুলিসের তদন্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। রাজীব কুমারকে পদ থেকে সরানোর জন্য ইডির আবেদনেও রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিবকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।