• মোদির ভারতে বিভাজন-ত্রাস! ঘৃণা ভাষণের শীর্ষে যোগীরাজ্য, এক বছরে ১,৩১৮ ঘটনা, ৯৮% মুসলিম বিরোধী
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ‘রাজ্যে রাজ্যে ঘৃণা ভাষণ বন্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে সরকারকে। অভিযোগ দায়েরের জন্য অপেক্ষা করলে চলবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশ-প্রশাসনকে।’ ২০২৩ সালের এপ্রিলে এই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনে ‘বিভাজন-ত্রাস’ অব্যাহত। এবং ক্রমেই তা বেলাগাম আকার নিয়েছে। অবধারিতভাবেই ঘৃণা ভাষণের এই স্রোতের নিশানা ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। আরও স্পষ্ট করে বললে— দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী। ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’-এর রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে (মুসলিম ও খ্রিস্টান) নিশানা করে গোটা দেশে বিদ্বেষ ভাষণের ঘটনা ঘটেছে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩১৮টি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে চারটি করে। আর সেগুলির ৯৮ শতাংশই মুসলিমদের টার্গেট করে। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, ২০২৩ সালে (সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের বছরে) এমন ঘৃণা ভাষণের সংখ্যা ছিল ৬৬৮টি। ২০২৫ সালে তা ৯৭ শতাংশ বা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তালিকায় সবথেকে উপরে রয়েছে বিজেপি বা তার জোট সরকার শাসিত ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি। একেবারে শীর্ষ স্থানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ। আর ব্যক্তি তালিকার পয়লা নম্বরে রয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।

    মোট ১০০ পাতার রিপোর্ট পেশ করেছে ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’। তাদের দাবি, ২০২৫ সালে মোট ১ হাজার ৩১৮টি ঘৃণা ভাষণের ঘটনার মধ্যে ১ হাজার ১৫৬টি ক্ষেত্রেই কেবলমাত্র মুসলিমদের নিশানা বানানো হয়েছে। আবার ১৩৩টি ঘটনায় তাদের সঙ্গে একযোগে টার্গেট ছিল খ্রিস্টানরাও। ২৯টি ক্ষেত্রে বিদ্বেষের বিষ ছিল শুধু খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে ১৬৯টি ঘটনায় (১২ শতাংশ) বিদ্ধ হয়েছে তারা। যদিও শতকরা বিচারে ২০২৪ সালের তুলনায় খ্রিস্টান-বিদ্বেষের ঘটনা বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

    মোট ২৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এব্যাপারে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই বিজেপি বা তার জোট সরকার শাসিত রাজ্যগুলিতে ঘৃণা ভাষণের ফুলঝুরি ছুটেছে। ১ হাজার ১৬৪টি ঘটনাই (৮৮ শতাংশ) ঘটেছে ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে। ২০২৪ সালে যা ছিল ৯৩১টি। অর্থাৎ, প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি। ২০২৫ সালে ২৬৬টি ঘৃণা ভাষণের ঘটনা ঘটেছে তালিকায় শীর্ষে থাকা উত্তরপ্রদেশে। তারপরেই স্থান যথাক্রমে মহারাষ্ট্র (১৯৩), মধ্যপ্রদেশ (১৭২), উত্তরাখণ্ডের (১৫৫)। দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিদ্বেষ ভাষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৬টি। বিরোধী রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম দশে রয়েছে একমাত্র কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক (৪০টি)। মোট সাতটি বিরোধী শাসিত রাজ্যে মোট ১৫৪টি বিদ্বেষ ভাষণের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে যা ছিল ২৩৪টি। অর্থাৎ, বিরোধী শাসিত এই প্রবণতা ৩৪ শতাংশ কমেছে।

    বিদ্বেষ-বক্তা হিসাবে প্রথম স্থানে রয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। ২০২৫ সালে এরকম ৭১টি ভাষণ দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া (৪৬টি)। তিন নম্বরে রয়েছে বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়ের (৩৫টি) নাম। রিপোর্টে দাবি, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘৃণা ভাষণ তুঙ্গে উঠেছিল। রাম নবমীর শোভাযাত্রা ও পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে এরকম মোট ১৫৮টি ঘটনা ঘটেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)