• দাম কমানোর বালাই নেই, এবার বাড়তি এক্সাইজ ডিউটি চাপানোর ছক, ফের মহার্ঘ হওয়ার পথে পেট্রল-ডিজেল?
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে লাগাতার অশোধিত তেলের দাম কমেছে। কিন্তু ‘রীতি’ অনুযায়ী দেশের মানুষ তার সুফল পায়নি। কী সেই রীতি? আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কমলে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও পেট্রল-ডিজেল সস্তা হবে। একইভাবে বৃদ্ধিটাও হবে সমানুপাতিক। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ার পর ভারতে পেট্রপণ্যের দাম বেড়েছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে অশোধিত তেলের দাম লাগাতার কমলেও পেট্রল-ডিজেল কিন্তু সস্তা হয়নি! যেমন এই মুহূর্তে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৫ ডলার প্রতি ব্যারেল। কিন্তু কলকাতার আম জনতাকে পেট্রল কত টাকায় কিনতে হচ্ছে? ১০৫ টাকা ৪১ পয়সা। অর্থাৎ, পুরানো দামে। এর পুরো মুনাফা কে লুটছে? ভারতের সরকারি তেল সংস্থাগুলি। কারণ তারা অশোধিত তেল কিনছে সস্তায়, বিক্রি করছে বেশি দামে। এবার সরকারও পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। তাই পেট্রপণ্যের উপর কেন্দ্রীয় শুল্ক ফের বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। 

    ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট। সেই বাজেটে যতই নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হোক না কেন, অর্থের সংস্থানও খুঁজতে হয় সরকারকে। সরাসরি সরকারের আয়বৃদ্ধির সহজতম পন্থা হল শুল্ক বৃদ্ধি। সেটি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ, দুই শুল্কই হতে পারে। অর্থমন্ত্রক তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছে। ২০২৬ সালের বাজেটে লিটার প্রতি পেট্রপণ্যের উপর ৩ থেকে ৪ টাকা করে কেন্দ্রীয় শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে লিটার প্রতি ২ টাকা এক্সাইজ ডিউটি বৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু সেই বর্ধিত শুল্কের চাপ ক্রেতাদের উপর যাতে না পড়ে, সেরকমই নির্দেশ ছিল কেন্দ্রের। এবার ফের যদি এক্সাইজ ডিউটি বেড়ে যায়, তাহলে অবশ্যই তা বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। কারণ হিসাবে বলা হবে, পাঁচ বছর পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। যা রেকর্ড। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? সরকারের যুক্তি হল, ২০২৫ সালে আয়করে বিপুল ছাড় দেওয়া হয়েছে বাজেটে। আর সেপ্টেম্বর থেকে কমে গিয়েছে জিএসটি। সুতরাং সাধারণ মানুষকে যথেষ্ট উপহার দেওয়া হয়েছে। তাহলে কি ডানহাতে সাশ্রয় উপহার দিয়ে বাঁহাতে ঘুরপথে সেই টাকাই নিয়ে নিতে চলেছে কেন্দ্র? 

    রাশিয়ার উরালস ক্রুড এবং ইউরোপ-পশ্চিম এশিয়ার ব্রেন্ট—দুই অশোধিত তেলই অনেক সস্তায় কেনার ফলে ছ’মাস ধরে তেল সংস্থাগুলির লিটার প্রতি সামগ্রিক মুনাফা ১৫ থেকে ১৮ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, যদি ৩ থেকে ৪ টাকা নতুন কেন্দ্রীয় শুল্ক বসানো হয়, তাহলে কেন্দ্রের বছরে আয়বৃদ্ধি হবে ৫০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা। বস্তুত রাশিয়া (উরালস) এবং আমেরিকার তেলের (ডব্লুটিআই) পাশাপাশি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওপেক তাদের তেলের ভাণ্ডার অনেকদিন পর ফের বিক্রির ক্ষেত্রে অবাধ করে দিয়েছে। ফলে জোগান বহুগুণ বেড়েছে। দামও কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। তাহলে এখনই কেন এক্সাইজ ডিউটি বৃদ্ধির মরিয়া প্রয়াস? সরকার মনে করছে, তেল সংস্থাগুলির মুনাফা বিগত দু’বছরে আকাশ ছোঁয়ায়, এক্সাইজ ডিউটি চাপানোর পরও তাদের উপর চাপ পড়বে না। গত বছরের এক্সাইজ ডিউটির বোঝা না চাপানোয় এবার জণগণ খানিক মাশুল গুনতেই পারবে। সবথেকে বড় কারণ অবশ্য আমেরিকার হুমকি। ভেনেজুয়েলার পর ইরান। তেল ভাণ্ডার যেখানে, সেটাই টার্গেট আমেরিকার। সুতরাং আজ নয় কাল অস্থিরতা বাড়বে এবং প্রভাব পড়বে তেলের বাজারে। ঊর্ধ্বমুখী হবে তেলের দাম। আগেভাগেই তাই শুল্ক বাড়িয়ে রাখতে চায় কেন্দ্র। 
  • Link to this news (বর্তমান)