ভূতনিতে অর্থ বরাদ্দ হলেও রাস্তার কাজ হয়নি, বিক্ষোভ বাসিন্দাদের
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা,মানিকচক: ভূতনির বেহাল রাস্তাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের পাঁচটি গ্রামের মূল রাস্তা পরপর দু’বছরের বন্যায় ভেঙে নাজেহাল অবস্থা। গত বছর বিধায়কের উদ্যোগে প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয় কাজের জন্য। এমনকি ঘটা করে উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু এবার বন্যা পরিস্থিতির কারণে অল্প কাজ করেই ঠিকাদার টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় গ্রামবাসীদের। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মানিকচকের বিডিওকে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
মানিকচক ব্লকের উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খোসবরটোলা, রাহাতপুর, ওয়াহেদুল্লাটোলা সহ পাঁচটি গ্রামের প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার গত দু’বছর বেহাল অবস্থা। গ্রাম থেকে উত্তর চণ্ডীপুর বা মানিকচকে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই রাস্তা। যা এখন একেবারে চলার অযোগ্য। বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যাতায়াত করতে গেলেই মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সকে ঘুরপথে আসতে হয় গ্রামে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, গ্রামে ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছেন না অনেকে। এই অবস্থায় মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের কাছে রাস্তাটি নিয়ে দরবার করেছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ২০২৪ সালের শেষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে দু’ধাপে প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা করার জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাস্তার কাজ প্রথম ধাপে কিছুটা হওয়ার পরই ২০২৫ সালে বন্যা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির স্বাভাবিক হলেও নতুন করে কাজ শুরু করেনি ঠিকাদার সংস্থা। এনিয়ে বারবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন জানালেও কাজ হয়নি। তাই বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকলেও কেউ নজর দেন না। অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। কাঁধে করে রোগীকে নিয়ে আসতে হয়। বহু জায়গায় জানালেও সদুত্তর পাইনি। লিখিতভাবে বিডিওকে জানালাম। কাজ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আমেনা খাতুনের মন্তব্য, রাস্তা নিয়ে সত্যিই এলাকাবাসীর ভীষণ সমস্যা। জানি না কেন ঠিকাদার কাজ করছে না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হব। ঠিকাদার সংস্থার পক্ষে মধু ঘোষ বলেন, এবছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কাজের। কীভাবে ক্ষতিপূরণ করে কাজ করা যায়, তার জন্য ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। যেভাবে নির্দেশ দেবে, কাজ সেভাবেই করা হবে। বাসিন্দাদের বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র