হিয়ারিংয়ের নামে হয়রানির ইস্যুতে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ লাঠি-কাঁদানে গ্যাস, আইসি সহ জখম ৬ পুলিশ
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআরের ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত হিয়ারিং পর্বে হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ তুমুল আকার ধারণ করছে। দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বৃহস্পতিবার টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ, ভাঙচুর, বিএলও’দের বিক্ষোভ-গণইস্তফার মতো একগুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়ায় এদিনের হিংসার ঘটনা। হিয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে, অভিযোগ সামনে রেখে উন্মত্ত জনতা স্থানীয় গোয়ালপোখর-২ বিডিও অফিসে চড়াও হয়ে যথেচ্ছ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে ঢুকে বিধায়ককে হেনস্তার পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয়। আক্রমণ করা হয় পুলিশকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে লাঠিচার্জ এবং পরে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। জনতার আক্রমণে চাকুলিয়া থানার আইসি রাজু সোনার সহ ৬ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। হাঙ্গামার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১০ জনকে। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। চলছে টহলদারি।
এদিন সকাল ৯টা নাগাদ চাকুলিয়ার কাহাটা এলাকায় হিয়ারিং হয়রানির প্রতিবাদে একদল মানুষ আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ শুরু করে। এরপর বেহেরিয়া, সাপরবাড়ি, বিজলিয়া ও ভুইধরের এমনকী থানার সামনে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ চলে। এরই মধ্যে বিডিও অফিসের সামনে জড়ো হতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। সেখানেও গেটের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ওই পর্বে একদল উন্মত্ত জনতা বিডিও অফিসের সমাজকল্যাণ বিভাগের ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। ভাঙচুর করা হয় কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিল সহ অন্যান্য অফিস সামগ্রী। এই সময় যুবকল্যাণ দপ্তরের ঘর এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে ভাঙচুর করে আগুন ধরানো হয়। গোটা বিডিও অফিস জুড়ে তাণ্ডব চললেও,তা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। উন্মত্ত জনতা তৃণমূল কংগ্রেসের দপ্তরে ঢুকে হেনস্তা করে বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদকে। ভাঙচুর করা হয় অফিসটি। একইসঙ্গে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে আরেক দল। আইসি সহ জখম হন কয়েকজন পুলিশ কর্মী। মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।
এদিকে, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কাজে অস্বচ্ছতা ও নিত্যনতুন চাপের অভিযোগ তুলে গণইস্তফা দিয়েছেন শতাধিক বিএলও। এদিন বীরভূমের নলহাটি-১ ব্লকের এ ঘটনায় বিডিও’র হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন বিএলও’রা। চলে তুমুল বিক্ষোভ। এসআইআরের হিয়ারিং পর্বে এ ঘটনায় বিপাকে পড়তে হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানি করার অভিযোগ তুলে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি পঞ্চায়েত এলাকার সুপারভাইজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বিএলও’রা। এরপর ওই অফিসে তালা ঝুলিয়ে আটকে দেওয়া হয় সুপারভাইজারকে। ভোগান্তি ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের শ্রীকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের নুরপুর এবং বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রের মাটিয়া বেগমপুরে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে ক্ষুব্ধ মানুষ। বিডিও’র অনুরোধে নুরপুরে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও, বেগমপুরে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চালানোর পাশাপাশি রাস্তার উপরেই গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না করেন মহিলারা। তাঁদের বক্তব্য, তুঘলকি সিদ্ধান্তে যখন তখন হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। সব জরুরি কাজ ফেলে হচ্ছে। কিন্তু পেট তো ভরতে হবে। তাই এখানেই রান্নার আয়োজন।