সংবাদদাতা, দিনহাটা: ভবঘুরেকে খুনের পর বাড়ির পাশে পুকুরে ছুরি ফেলে দেয় ‘নরখাদক’ ফেরদৌস আলম। বৃহস্পতিবার তাকে সঙ্গে নিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র, দিনহাটার সার্কেল ইনসপেক্টর মহিম অধিকারী, নয়ারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ওসি হিমাদ্রি ঘোষ এদিন পুনর্নির্মাণের সময় উপস্থিত ছিলেন। ওই পুকুর তল্লাশি চালিয়ে খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেন হিমাদ্রি ঘোষ।
বেশ কয়েক বছর আগে ফেরদৌসের বাবা-মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পরে বেশি করে অবসাদে ভুগতে থাকে সে। গাঁজার নেশা বাড়ে তার। দীর্ঘ একবছর নেশামুক্তি কেন্দ্রে ছিল সে। নভেম্বর মাসে বাড়িতে ফেরে। একাই থাকত সে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্মশানে যায়। তখন শ্মশানের ঘরে বসেছিল ভবঘুরে। তাকে কাছে ডাকে। তারপর চাষের জমির আল ধরে তিনশো মিটার যায় দু’জনে। তখনই হঠাৎ ছুরি দিয়ে ভবঘুরেকে আঘাত করে ফেরদৌস। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই ভবঘুরে। তখন তার গলায় তিনবার আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হতেই ঘাড়ে তুলে নেয় দেহ। এরপর জমির আল বেয়ে দেহ তার বাড়ির কাছে নিয়ে আসে।
সেখানে এক প্রতিবেশীর বাড়ির কলে মৃতদেহ রাখে। তারপর ওই বাড়ির জলের মোটর চালু করে। মোটরের শব্দে বাড়ির মালকিন টের পান। ফেরদৌস জানায় স্নান করতে এসেছে। টিউবওয়েল এর পাশে গিয়ে চমকে ওঠেন গৃহকর্ত্রী। দেখেন, ফেরদৌস মৃতদেহ পরিষ্কার করছে। এরপরে আবার সে খুনের ঘটনা স্থলে দেহ নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফিরে এসে নিজের বাড়ি যায়। বাড়ির পাশে সেদিনের জামাকাপড় পুড়িয়ে ফেলে। তবে তার রক্তমাখা চাদর উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনার পরের দিন ভুট্টা খেতে সকালে এক ব্যক্তি স্প্রে করতে যান। তাঁর নজরে দেহটি পড়ে। তাঁর চিৎকারে আশেপাশের মানুষ চলে আসে। তখন ওই ভবঘুরের মৃতদেহ চিহ্নিত হয়।
পুলিশি জেরায় ফেরদৌস মানুষের মাংস খাওয়ার জন্য খুনের কথা স্বীকার করে। এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণ হল। এসডিপিও বলেন, খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত ছুরি পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে। • পুকুর থেকে ছুরি উদ্ধার করছে পুলিশ। - নিজস্ব চিত্র।