• মাঝরাতে জলপাইগুড়ি শহরে গুলি! শোরগোল, গাড়ির কাচ, দোকানের দরজায় বুলেটের চিহ্ন
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মাঝরাতে জলপাইগুড়ি শহরে পরপর গুলি চলল। রাস্তায় পার্কিং জোনে রাখা গাড়িতে এবং বাড়ির দরজায় বিঁধল বুলেট। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে গুলি চালাল, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। বুধবার রাতে জলপাইগুড়ির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজপাড়ার এ ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। 

    বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাত। তিনিও ঘটনায় উদ্বিগ্ন। রহস্য গুলি-কাণ্ডের তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সংগ্রহ করা হচ্ছে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান ফরেন্সিক টিমের সদস্যরা। যদিও রাত পর্যন্ত ঘটনার কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, কাল ১৭ জানুয়ারি জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিত থাকার কথা। তার আগে এই ধরনের ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। জেলা পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, সমাজপাড়ায় দু’রাউন্ড শূন্যে গুলি চলেছে। কোনও হতাহতের খবর নেই। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। 

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁরা বাজি-পটকা ফাটানোর মতো শব্দ শুনতে পান। তারপরই গুলি চলার শব্দ শুনতে পান কেউ কেউ। কিন্তু অত রাতে রাস্তায় বেরিয়ে কেউ আর বিষয়টি দেখেননি। এদিন সকালে সমাজপাড়ায় রিক্রেশন ক্লাবের কাছে রাস্তার পার্কিং জোনে রাখা একটি গাড়ির উইন্ড স্ক্রিনে এবং পাশেই একটি বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া ভিডিও মিক্সিং ক্যাফের দরজায় গুলির চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় গুলির খোল। 

    স্থানীয় বাসিন্দা রামপ্রসাদ কামতি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় রাস্তায় গাড়ি পার্ক করে ঘরে ঢুকি। রাতে পটকা ফাটার আওয়াজ পেয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি গুলি চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভাইঝিকে স্কুলে দিতে বেরিয়ে দেখি, গাড়ির সামনের কাচে গুলি লেগে ফুটো হয়ে গিয়েছে। গাড়ির দরজা খুলে দেখতে পাই, ড্যাশ বোর্ড ভেদ করে গুলি গিয়ে সিটে বিঁধেছে। তাঁর দাবি, আমি ছ’মাস হল সমাজপাড়ায় ফ্ল্যাটে এসেছি। কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। কেন আমার গাড়িতে গুলি করা হল, বুঝতে পারছি না। 

    পাশেই ভিডিও মিক্সিংয়ের দোকান সায়ন্তন চক্রবর্তীর। দরজা বন্ধ করে রাত পর্যন্ত ভিতরে কাজ করেন তিনি। বুধবার রাতে কাজ সেরে সবে শুতে যাবেন, ঠিক তখনই তাঁর ক্যাফের কাচের দরজায় গুলি এসে লাগে। সায়ন্তনের দাদা তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, ভাগ্যিস, ভিতরে আরও একটি দরজা দেওয়া ছিল। না হলে কাচের দরজা ভেদ করে গুলি ভিতরে ঢুকে বিপদের কারণ হতে পারত। • ঘটনার পর তদন্তে পুলিশ। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)