সংবাদদাতা, ইটাহার: মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সুই নদীতে পুণ্যস্নান করলেন হাজার হাজার মানুষ। শতাব্দী প্রাচীন ইন্দ্রান শ্মশান গঙ্গা মেলা এদিন রূপ নেয় তীর্থ ক্ষেত্রে। পরম্পরা মেনে পুণ্যস্নান সেরে পুণ্যার্থীরা নদীর পাড়ে বসে খেলেন আলুর দম আর মুড়ি।
ইটাহারের সুরুন ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রান গ্রামে প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিতে বসে শ্মশান গঙ্গা মেলা। প্রায় দেড়শো বছর পুরনো তিনদিনের মেলায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। গ্রামের অদূরে সুই নদীর ধারে নির্মিত মন্দিরে হয় গঙ্গা, রাধা-কৃষ্ণ, শিব, শ্মশান কালী, বেহুলা-লখিন্দরের পুজো। প্রায় ৭৫ বছর থেকে ইন্দ্রানের মেলাটি শ্মশান গঙ্গা ভূত মেলা নামে পরিচিত। এদিন পুণ্যস্নান সারেন কালিয়াগঞ্জের আদ্য দেবশর্মা, রায়গঞ্জের পরেশ দাস। এই মেলায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার থেকেও আসেন হাজার হাজার ভক্ত। তবে মেলার মূল আকর্ষণ স্নানের পর নদীর পাড়ে বসে আলুর দম আর মুড়ি খাওয়া।
বহু বছর ধরে সুই নদীতে পুণ্যস্নান করেন ইটাহারের চিত্ত পাল, রায়গঞ্জের মিনু দাসরা। স্নান উপলক্ষ্যে নদীর পাড়ে বসেছে তিনদিনের মেলা। যা শনিবার পর্যন্ত চলবে। মেলায় বসেছে দুই শতাধিক দোকান। সপরিবারে স্নান সেরে পুণ্যার্থীরা পাড়ে বসে মুড়ি, আলুর দম খেয়ে মেলা ঘোরেন। রায়গঞ্জের বাসিন্দা মিনু বলেন, প্রতিবছর এখানে পরিবার নিয়ে পুণ্যস্নান করতে আসি। স্নান শেষে নদীর পাড়ে বসে মুড়ি ও আলুর দম খাই। খুব ভালো লাগে। বহু পুরনো এই মেলায় এটাই মূল আকর্ষণ।
মেলা কমিটির তরফে প্রহ্লাদ সাহা জানান, তিনদিন মেলা হবে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। সুই নদীর পাড় বরাবর আয়োজিত এই মেলায় ভিড় সামলাতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেলা কমিটি সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চালাচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র।