লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে কাজের চাপ, শতাধিক বিএলওর ইস্তফা নলহাটি ১ ব্লকে, বিক্ষোভ
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে এসআইআরে অস্বচ্ছতা এবং কমিশনের প্রবল চাপ, এই দুই অভিযোগ তুলে শুনানি পর্বের মাঝেই গণ ইস্তফা দিলেন শতাধিক বিএলও। বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে নলহাটি ১ ব্লকের বিডিওর হাতে সেই ইস্তফা পত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবল বিক্ষোভ দেখান বিএলওরা। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, গণ ইস্তফা বলে কিছু হয় না। ইস্তফা দিতে গেলে ব্যক্তিগত ভাবে দিতে হয়। আর ইস্তফা পত্র গ্রহণের বিভিন্ন প্রক্রিয়া আছে। ব্লক থেকে কাগজপত্র আসুক, তার পর নির্বাচন কমিশন যেমন নির্দেশ দেবে সেভাবে এগব।
এদিন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষে ফেটে পড়েন নলহাটি ১ ব্লকের বিএলওরা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কাজের পদ্ধতির প্রতিবাদে প্রায় শতাধিক বিএলও একযোগে জড়ো হয়ে ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরে বিডিওর সঙ্গে দেখা করে গণ ইস্তফা পত্র তুলে দেন তাঁরা। ইস্তফা পত্রে তাঁরা জানান, একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁদের প্রাথমিক কর্তব্য পড়ুয়াদের শিক্ষাদান করা। কিন্তু বিএলওর কাজের অত্যাধিক চাপ এবং দিনরাত অ্যাপের মাধ্যমে এন্ট্রির কাজে ডাকার ফলে স্কুলে পড়ানোর কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না তাঁরা। এত পড়ুয়াদের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নাম করে অস্বচ্ছ কাজকর্ম করছে নির্বাচন কমিশন। বিএলও হিসেবে তাঁদের এই অস্বচ্ছতার ভাগিদার হতে হচ্ছে। এই কর্মপদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে লিখিত অর্ডার বা ট্রেনিং ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জোর করে অনৈতিক কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিএলও আজকারুল হোসেন বলেন, আমরা এসআইআরের কাজ আর করব না। আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের জীবন সংশয় তৈরি হয়েছে। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছি। তাই এদিন থেকেই এসআইআরের কাজ বন্ধ করলাম।
আর এক বিএলও সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ২০০২ সালের তালিকা ধরে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এখন এআই দিয়ে কাজ করানোর জন্য অনেকের নামের বাংলা উচ্চারণ এক থাকলেও ইংরেজিতে ভুল এসেছে। তাতেই এত এত মানুষের কাছে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নোটিস আসছে। আর কমিশন ক্রমাগত চাপ দিয়েই আসছে বিএলওদের উপর। একজনের পক্ষে ৪০০- ৫০০ নোটিস বিলি করা সম্ভব নয়। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকছে না। তাই আমরা ছেড়ে দিচ্ছি। বিক্ষোভরত বিএলওদের আরও অভিযোগ, একই বাড়িতে বার বার নোটিস দিতে গিয়ে তাঁদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে বিএলওরা জানিয়েছেন, যদি কমিশন লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি নামের এই অস্বচ্ছ কাজ বন্ধ করে তাহলে পরে ভাবব এই কাজ করব কি না।
এ ব্যাপারে বিডিও সৌরভ মেহেতাকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে বিক্ষোভরত বিএলওরা জানিয়েছেন, বিডিও তাঁদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে রিসিভড কপিতে সই করে দিয়েছেন। তিনি ইস্তফাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবেন বলেছেন।