• নবদ্বীপ পুর এলাকায় পুকুর বোজানোর অভিযোগ, তদন্ত শুরু রাজ্য ভূমিদপ্তরের
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুটিরপাড়া এলাকার একটি পুকুর বোজানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল দেবনাথ ও বিজয়কুমার সাহা। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ২৮ কাঠার একটি পুকুর ছিল। সেই পুকুরে মাছ চাষ হতো আজ থেকে ২০ বছর আগে। পরবর্তীকালে সেই পুকুরের মালিকানা বদলে যায়। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী বিজয়কুমার সাহার এক আত্মীয় সেই পুকুরটি কেনেন। তারপর সেই পুকুর মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা হচ্ছে। সেই পুকুর বোজানো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। 

    অন্যদিকে অনেকের বক্তব্য এটা পুকুর ছিল না। এই এলাকা নবদ্বীপের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। যেখান থেকে মাটি কেটে এলাকার মানুষজন তাদের বাড়িঘর করার মাটি নিয়েছেন। ফলে একটা গর্ত তৈরি হয়েছে। এই গর্তে বর্ষায় জল জমে। সেখানে মশামাছি, সাপের উপদ্রব হয়। এখন এটি এলাকাবাসীর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

    কুটিরপাড়ার বাসিন্দা গোপাল দেবনাথের অভিযোগ, নবদ্বীপ-বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশন সংলগ্ন কুটিরপাড়ায় এই পুকুরটি অবৈধ ভাবে ভরাট করা হচ্ছে। একটা সময়ে এই পুকুরে মাছ চাষ হতো। এটি ৫০ বছরের পুরনো ২৫ ফিট গভীর পুকুর ছিল। বেআইনিভাবে সেই পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। পুকুর ভরাট বন্ধের জন্য আমি বিএলআরও সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করেছি। যাতে এই পুকুর ভরাট বন্ধ হয়।

    আর এক অভিযোগকারী বিজয়কুমার সাহা বলেন,এখানে পুকুর ছিল। আমি প্রায় ২০ বছর আগে লিজ নিয়ে এখানে মাছ চাষ করতাম। আমার ভাইপো নির্মল সাহার নামে এই জায়গা আছে। এখন ভাইপোর ছেলে এই পুকুরটা বোজাতে চাইছে। আমরা চাইছি এই পুকুরটা যেন বোজানো না হয়, সেই জন্যই আমি অভিযোগ দায়ের করেছি। বিজয়বাবু বলেন, এই পুকুরটা লিজ নিয়ে আমি মাছ চাষ করতাম। যদিও এদিন তিনি লিজের কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কুটিরপাড়ার বাসিন্দা রাহুল পাশোয়ান, সমর দে এবং কৃষ্ণা পোদ্দাররা  জানান, এটা নিচু জায়গা ছিল, মানুষ মাটি নিতে নিতে  গর্ত হয়ে গিয়েছে। এখানে জল থাকে না। সবাই এখান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে গর্ত হয়ে গিয়েছে। এটা কখনও পুকুর ছিল না। ভিটে জমি। ওই জায়গাটা ভর্তি হলে আমাদের খুব উপকার হয়। যদি এখানে পুকুর থাকত পরিষ্কার জল থাকতো তাহলে কি কেউ বোজাত। 

    নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের রাজস্ব পরিদর্শক (নবদ্বীপ পুরসভা) সোমদীপ চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ ছিল পুকুর ভরাটের। পঞ্চাশ বছরের পুরনো একটা পুকুর যেটা প্রায় ২৫ ফুট গভীর। গোপাল  দেবনাথ এবং বিজয় কুমার সাহা দুজন অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সেই পুকুরটি অবৈধভাবে ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সকালে আমরা তদন্তে আসি। আশপাশের সাধারণ মানুষ যারা প্রতিবেশী তাদের সঙ্গে কথা বললাম। তবে এই জমিটার চরিত্র ‘ভিটে জমি’। এটা যদি পুকুর এবং ডোবা থাকে, সেটা গর্হিত অপরাধ। কিন্তু ক্লাসিফিকেশন যখন ভিটে দেখছি, তখন নিশ্চয়ই এটা কোনও এক সময় ডাঙা জায়গা ছিল। বর্ষার সময়ে এখানে জল জমে এবং অন্য সময় এটি শুকিয়ে যায়, বাসিন্দাদের বক্তব্য। এখানে আমরা স্থানীয়দের প্রশ্ন করেছিলাম এই জায়গাটা এত নিচু হল কেন। তাদের বক্তব্য আশপাশের রাস্তা এবং আমরা যখন বাড়ি করেছি এই জায়গা থেকে মাটি কেটেছি। জায়গাটা নিচু হয়ে গিয়েছে এখন সব নোংরা ফেলে আবর্জনা পূর্ণ জায়গা হয়ে গিয়েছে। এরপর আমরা বাদীর বক্তব্য  এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানালেন, এই পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। তবে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে জায়গাটা যে নিচু এটা আমাদের তদন্ত উঠে এসেছে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)