নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সামান্য ভুলেই ডাকা হচ্ছে শুনানিতে। এ হয়রানি ছাড়া কিছুই নয় বলে অভিযোগ ভোটারদের। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার পুরশুড়া বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান সাঁওতা গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ। খবর পেয়ে পুরশুড়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন পুরশুড়া ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা। পুরশুড়ার বিডিও মদনমোহন মুর্মু বলেন, ভোটাররা এসেছিলেন। তাঁদের কিছু বিষয় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। তা বোঝানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নামের বানান, বয়স সহ নানা তুচ্ছ কারণে নোটিস পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদেরও বাড়িতে আসতে হচ্ছে। তারপরেও সব কিছু মিটছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রতিদিন বিডিও অফিসে গিয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। কারও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নোটিস দিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। সব কাজ ফেলে বিডিও অফিসে ছুটতে হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন ভোটাররা। তার প্রতিবাদেই এদিন বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কিন্তু বিডিও অফিস থেকে তেমন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
সাঁওতা গ্রামের বাসিন্দা শেখ হাসিবুল রহমান বলেন, আমার এখনও নোটিস আসেনি। কিন্তু গ্রামবাসী হিসেবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। গ্রামে এমন কয়েকশো বাসিন্দার নামে শুনানির নোটিস এসেছে। সামান্য ভুলের জন্যও নোটিস আসছে। কখনও জন্ম সার্টিফিকেট দিতে হচ্ছে। কখনও স্কুলের শংসাপত্র, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড দিতে হচ্ছে। এরফলে প্রত্যেকেই হয়রানির মধ্যে পড়েছেন।
আরেক বাসিন্দা শেখ ইসমাইল পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে বেঙ্গালুরুতে। তিনি সেখানে সেলাইয়ের কাজ করেন। দিন ১৫ আগে বাড়িতে এসেছেন। তাঁর স্ত্রীর নামে এসেছে শুনানির নোটিস। তিনি বলেন, এসআইআরের জন্যই বাড়ি এসেছি। অনেকের নানা কারণে নোটিস আসছে। প্রত্যেকেই হয়রানির মধ্যে পড়ছেন। তার প্রতিবাদেই এদিন বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। জানা গিয়েছে, এদিন সাঁওতা গ্রামের ভোটাররা পুরশুড়া বিডিও অফিসে যান। বিক্ষোভে শামিল হন মহিলারাও। এদিনও অনেকে শুনানিতে আসেন। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন। পরে অবশ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।
বাম নেতা শেখ ফারুক মহম্মদ লস্কর বলেন, এসআইআরের নামে পিছিয়ে পড়া গরিব মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তৃণমূলের পুরশুড়া ব্লকের সভাপতি তপন সামুই বলেন, এসআইআরের নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। একাধিকবার করে ভোটারদের ডাকা হচ্ছে। মানুষ বিরক্ত হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, এসআইআরের কাজ নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত। এখানে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে কমিশন কাজ করছে।