• নন্দীগ্রামে শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাত ধরেই জোড়া সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্বোধন
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাত ধরেই জোড়া সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্বোধন হল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন, নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের রক্তে রাঙা ইতিহাস যাঁরা রচনা করেছেন, তাঁদের বাড়ির সদস্যরাই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শিবিরের ফিতে কাটুক। তাঁর ইচ্ছা মতোই এদিন সকাল ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে দুটি শিবিরের উদ্বোধন হল। শহিদ পরিবারের সদস্যরাই ফিতে কেটে শিবিরের উদ্বোধন করেন। সেইসঙ্গে সেবাশ্রয় স্মারক উন্মোচন করা হয়। দুই জায়গায় শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধিত করা হয়। আবেগঘন এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন হাজার হাজার মানুষ। শুধু নন্দীগ্রাম নয়, এই মুহূর্তের সঙ্গী থাকতে চণ্ডীপুর, ভগবানপুর, খেজুরি সহ নানা প্রান্ত থেকে লোকজন এসেছিলেন।নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে প্রাণ হারান শেখ ইমদাদুল। তাঁর মা বিধায়ক ফিরোজা বিবি শহিদ জননী হিসেবে পরিচিত। এদিন ফিরোজা বিবির স্বামী মণিরুল ইসলাম নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সেবাশ্রয় শিবির উদ্বোধনে অংশ নেন। এছাড়াও উত্তম পাল, রাখাল গিরি, শেখ রেজাউল, শেখ সোলেমান সহ জমি আন্দোলনে প্রাণ হারানো একাধিক পরিবারের সদস্যদের হাতের ছোঁয়ায় সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্বোধন হয়।

    প্রথম দিন দুই শিবিরে অনেক রোগীর ভিড় হয়। তবে, নার্ভ, হার্ট প্রভৃতি জটিল অসুখে ভোগা লোকজনের সংখ্যাই বেশি ছিল। সেবাশ্রয় শিবিরে পর্যাপ্ত হুইল চেয়ার রাখা আছে। অসুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারা রোগীদের হুইল চেয়ারে বসিয়ে স্বেচ্ছাসেবকরাই ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছেন। রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করার জন্য পৃথক রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষুদ্র সংস্করণ এই সেবাশ্রয় শিবির। প্রায় সব বিভাগের চিকিৎসক এখানে এসেছেন। তাঁরা রোগীদের দেখছেন। প্রয়োজনীয় সাজেশন দিচ্ছেন। নানাবিধ টেস্টও করানো হচ্ছে।

    শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের উত্তর ওষুধপুর গ্রামের তিন বছরের আদিত্য প্রধান বিরল জেনেটিস রোগ ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোপি টাইপ-২’তে আক্রান্ত। তাঁর সুস্থ হওয়ার জন্য দরকার ৯ কোটি টাকা দামের ইঞ্জেকশন। আদিত্যর মা অচর্না প্রধান নানাভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের জন্য চেষ্টা করছেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তমলুক পুরসভার কাউন্সিলার দেবশ্রী মাইতি সহ আরও অনেকে। বৃহস্পতিবার ছেলেকে নিয়ে নন্দীগ্রাম-২ সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে সাংসদের কাছে সাহায্যের আকুতি করেন অচর্না।

    এদিন নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্বোধনে অংশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা পূর্ব মেদিনীপুরের কো অর্ডিনেটর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিরোধীরা প্রায়ই বড় বড় হাসপাতাল সত্ত্বেও কেন এমন সেবাশ্রয় ক্যাম্পের প্রয়োজন তা নিয়ে কথা বলছেন। আসলে গত ১৫ বছরের এরাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আমূল বদল হয়েছে। বড় বড় হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে জনসংখ্যাও বেড়েছে। এধরনের শিবিরের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। বিজেপি নেতারা নিজেরা এরকম একটা উদ্যোগ নিতে পারেন না। কিন্তু, বিরোধিতা করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত। এভাবেই ওরা মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলছে। ২০২৬ সালে এই নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপিকে উৎখাত করবে এখানকার মানুষ। 
  • Link to this news (বর্তমান)