সেবাশ্রয় শিবিরে বিপুল সাড়া নন্দীগ্রামে বিজেপির অশনি সংকেত
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: ‘ডায়মন্ডহারবার মডেল’। লক্ষ্মীবারে নন্দীগ্রামে চালু হয়ে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া সেবাশ্রয় ক্যাম্প। প্রথম দিনেই বিপুল সাড়া। বিরল ও জটিল অসুখে ভোগা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শিবিরের ভেতর বসে রোগীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বললেন অভিষেক। কঠিন রোগে আক্রান্তদের কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দিলেন। পাল্টা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন সকলেই। অভিষেকের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিকে বেকায়দায় ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। অশনি সংকেত বলেও দাবি নন্দীগ্রামবাসীর একাংশের।
তৃণমূল সূত্রের খবর, আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বাইপাস রোড এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে খোদামবাড়িতে দু’টি ‘সেবাশ্রয়’ চালু থাকবে। এমন মানবিক উদ্যোগ অতীতে কখনও নন্দীগ্রামে হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই দলমত নির্বিশেষে সবার উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন সকাল থেকেই দুই শিবিরে রোগীদের ভিড় জমতে শুরু করে। বিকেলে অভিষেক সড়ক পথে প্রথমে খোদামবাড়ির সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যান। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে রাস্তার দু’পাশে লোকেরা ভিড় করেন। ক্যাম্পে এসেই ঘুরে ঘুরে রোগীদের দেখেন। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে বাইরে অপেক্ষারত উৎসাহীদের সঙ্গে হাত মেলান। তারপর তাঁর কনভয় ছোটে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে বাইপাস রোড সংলগ্ন সেবাশ্রয়-১ ক্যাম্পে। সেখানেও ভিড় ছিল প্রচুর।
বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমড়াতলার দীপশিখা মাইতি। ১০ বছরের দীপশিখা দাঁড়াতেই পারে না। বসে থাকতেও পারে না। বাবা কৌশিক মাইতি বাধ্য হয়ে মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু, দীপশিখার মা দেবযানী হাল ছাড়তে নারাজ। মেয়েকে নিয়ে তিনি হাজির হন খোদামবাড়ির সেবাশ্রয়ে। চিকিৎসকরা দীপশিখাকে দেখেছেন। অভিষেকে সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন দীপশিখার মা ও দাদু। দীপশিখাকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন অভিষেক।
নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের গোপালচক গ্রামের আড়াই বছরের সন্দীপ ভুঁইয়া। ম্যানেনজাইটিসে আক্রান্ত সে। প্রায় তিন মাস ধরে চিকিৎসা চলছে। কিন্তু, সুস্থ হয়নি সন্দীপ। ভুবনেশ্বর এইমসেও চিকিৎসাধীন ছিল। এদিন নাকে নল ঢোকানো অবস্থায় সন্দীপকে নিয়ে খোদামবাড়ির সেবাশ্রয়ে আসেন মা সুপ্রিয়া ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম থেকে ভুবনেশ্বর, সর্বত্র চিকিৎসা করিয়েছি। ছেলে সুস্থ হয়নি। সেবাশ্রয় শিবিরে এসে খানিক ভরসা পেলাম।’
নন্দীগ্রামের ভেটুরিয়া গ্রামের বুরহান খানের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন ছেলের বয়স আট-নয় বছর হওয়ার পরই তারা অদ্ভুত সমস্যার শিকার। হাঁটুর নীচ থেকে পেশি শক্ত হয়ে যাচ্ছে। দাঁড়াতেই পারছে না। এদিন বুরহানের ছোট ছেলে ১৩ বছরের নঈম খানকে হুইল চেয়ারে সেবাশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়। নঈমের প্রতিবেশী কুতুবুদ্দিন খান বলেন, ‘তিন ভাইয়ের একই সমস্যা। সেবাশ্রয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসক দল এসেছে। তাঁদের শরনাপন্ন হয়েছি।’
খোদামবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শম্ভু মাইতি সেবাশ্রয়ে এসেছিলেন উৎসাহী এলাকাবাসী হিসেবে। তিনি বলছিলেন, ‘এভাবেও মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এই মানবিক প্রয়াসে নন্দীগ্রাম তথা গোটা পূর্ব মেদিনীপুরবাসী উপকৃত হবেন।’ ভগবানপুর-১ ব্লকের কজলাগড় পঞ্চায়েত থেকে এসেছিলেন সদানন্দ বেরা। তিনি বলেন, ‘ভোট এলে বিজেপিকে ময়দানে দেখা যায়। মানবিক পদক্ষেপ নেয়না।’