• ফরম-সাতে নাম বাদ! বিজেপির কারসাজি ব্যর্থ, ধাক্কা খেল বিহার, উত্তরপ্রদেশ নেতাদের কৌশল
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয়তায় ধাক্কা খেল বিজেপির নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র। নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপক সংখ্যায় ফরম সেভেন জমা দেওয়ার টার্গেট নিয়েছিল। বৃহস্পতিবারই ছিল ওই ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন রাজ্যের সব জেলাতেই তারা বিপুল সংখ্যক ফরম জমা দেওয়ার টার্গেট নিয়েছিল। কিন্তু, বাঁকুড়া থেকে ‘খবর’ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরম সেভেন ডাউনোড ও ফিলআপ করার জন্য প্রতিটি জেলাতেই কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। মনিটরিংয়ের কাজ করছিলেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে আসা ‘প্রবাসী’ বিস্তারকরা। হঠাৎ করেই ফরম জমা দেওয়ার পরিকল্পনা কথা তৃণমূল মঙ্গলবার জানতে পেরে যায়। তারপর থেকেই প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রে শাসক দলের নেতারা মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। সেই কারণে বিজেপি নেতারা সেই ঝুঁকি নেয়নি।

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি’র পরিকল্পনার কথা সামনে আসার পর থেকেই সব কেন্দ্রেই নেতাদের থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজেপি নেতাদের গতিবিধির উপরও তারা নজরদারি চালাতে থাকে। এক বিজেপি নেতা বলেন, আমাকে ৩০০টি ফরম সেভেন জমা করার জন্য বলা হয়েছিল। একটি ফরমও জমা করিনি। আরটিআই করলেই অভিযোগকারীর নাম জানা যাবে। যাদের নামে অভিযোগ করব তারা আজ না হয় কাল জানতে পারবে। তখন আমাদের কে বাঁচাবে? শুধু অনলাইন নয়, অভিযোগপত্রের হার্ডকপি জমা করতে হবে। শুধু অনলাইনে অভিযোগ করার সুযোগ থাকলে কারও তেমন অসুবিধা হত না।

    বিজেপির আর এক নেতা বলেন, বহিরাগত নেতারা ভোটের পর চলে যাবেন। তাঁরাই ফরম সেভেন জমা করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বুথে বুথে ঘুরে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের চিহ্নিত করার নির্দেশ আসে। বাঁকুড়ার ঘটনার পর অধিকাংশ নেতা ঝুঁকি নেয়নি। ওইদিনও একসঙ্গে বহু ফরম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেটা দলের কেউ না কেউ তৃণমূলকে জানিয়েছিল। তৃণমূল নেতা তন্ময় সিংহরায় বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বৈধ ভোটারদেরও নাম বাদ দিতে চাইছে। তারা নিজেরাও ফরম সেভেন জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু, আমরা নজর রেখেছিলাম। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, খসড়া তালিকায় বহু সন্দেহজনক ভোটার রয়েছে। তাদের নামে আপত্তি জানাতেই ফরম সেভেন জমা করা হচ্ছিল। তৃণমূল নেতারা বাধা দিয়েছে। 

    কমিশন সূত্রে জানা জানা গিয়েছে, জমা পড়া ফরম সেভেনগুলি যাচাই করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে শুনানিতে ডাকা হবে। তবে তৃণমূলের আশঙ্কা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নোটিস করে না ডেকেই নাম বাদ দেওয়া হতে পারে। খাতায় কলমে কমিশন নোটিস দেওয়ার কথা জানাবে। কিন্তু, বাস্তবে তা নাও হতে পারে।  আসানসোলে বিজেপির বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)