• শুনানিতে বাতিল মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও, নথিপত্র জমা দিয়েও কপালে ভাঁজ মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এসআইআর শুনানি চলাকালীন আচমকা নিয়ম বদল নির্বাচন কমিশনের! যার ফলে চরম বিভ্রান্তির মুখে মুর্শিদাবাদের ভোটাররা। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্কুল সার্টিফিকেট হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি নয়। কারণ, তা এসআইআরের শুনানির গ্রহণযোগ্য নথির তালিকাভুক্ত নয়। আর সেই নির্দেশিকা এসেছে শুনানি শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর। অথচ শুনানির শুরু থেকেই অ্যাডমিট কার্ড জমা নেওয়া হচ্ছিল স্কুল সার্টিফিকেট হিসেবে। ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী?

    মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা অজয় দে বলেন, শুনানির সময় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছিলাম। অন্য নথি থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে আবার শুনানিতে ডাক পড়লে চরম সমস্যায় পড়তে হবে।

    কমিশন নির্ধারিত নথির তালিকায় স্কুল সার্টিফিকেটের উল্লেখ রয়েছে। তাই বোর্ড নির্ধারিত মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন, অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট ও পাশ সার্টিফিকেটই এতদিন গ্রহণ করা হচ্ছিল। সেই ভরসাতেই রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার ভোটার শুনানিতে সেই নথি জমা দিয়েছেন। কিন্তু, হঠাৎ করে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিকেই অযোগ্য ঘোষণা করায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

    নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড দেখিয়ে আর কেউ নিজেকে বৈধ ভোটার হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন না। নথি জমা নেওয়ার পর তা বাতিল করার এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহল সরাসরি ‘তুঘলকি ফরমান’ বলে কটাক্ষ করেছে।

    জেলার বহু বিধানসভায় ইতিমধ্যেই আনম্যাপড ভোটারদের শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই শুনানিতে জমা পড়া অ্যাডমিট কার্ডের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়েই এখন ধোঁয়াশা। শুনানি শেষ হওয়ার পর নিয়ম বদলের যুক্তি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কারণ, মাধ্যমিক পাশ করার পরেই স্কুল সার্টিফিকেট মেলে। ফলে যাঁরা মাধ্যমিক পাশ করেননি বা পরীক্ষা দেননি, তাঁদের কাছে বৈধ স্কুল সার্টিফিকেট দেখানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    এক আধিকারিক বলেন, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা মার্কশিট গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই। ফলে যাঁরা শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিলেন, কিন্তু পরীক্ষায় বসেননি, তাঁদের নথি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেল। আবার অনেক ভোটারের কাছে মার্কশিট থাকলেও পাশ সার্টিফিকেট নেই।

    মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন একের পর এক তুঘলকি নির্দেশিকা জারি করছে। শুনানি শুরু হওয়ার অনেক পরে অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করায় বড় প্রশ্ন উঠছে-যাঁরা এই নথি দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চেয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? এতে বাংলায় অরাজকতা তৈরি হবে এবং বহু ভোটার হয়রানির শিকার হবেন।  ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)