• সোনালিকে বাংলা আবাস দেওয়ার তোড়জোড়, বাড়ি গিয়ে আশ্বাস কাজল শেখের
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাংলাদেশে করা হয়েছিল পুশব্যাক। বন্দি থাকতে হয় সে দেশের জেরে। অনেক ঝঞ্ঝাট পেরিয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাইকরের সোনালি বিবি। তাঁর কোলে এসেছে ফুটফুটে সন্তান। বর্তমানে সোনালি বাপেরবাড়িতে থাকলেও তাঁর নিজের কোনও আস্থানা নেই। তাই তাঁকে সরকারিভাবে জমির  পাট্টা ও বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করল বীরভূম জেলা প্রশাসন। বুধবার পাইকরে এসে সোনালি বিবির সঙ্গে দেখা করে এবিষয়ে আশ্বাস দেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ।  

    উল্লেখ্য, গতবছর ২৬ জুন দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিকের প্রমাণপত্র যাচাই না করেই দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। দানিশ শেখ ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী সোনালি বিবি এবং তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে সাবির শেখের সঙ্গেই মুরারইয়ের ধীতোরা গ্রামের সুইটি বিবি ও তাঁর দুই সন্তান বছর পনেরোর কুরবান শেখ ও পাঁচ বছরের ইমাম শেখকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহ তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। তাঁদের বাংলাদেশের জেলেও বন্দি থাকতে হয়। যা নিয়ে সোচ্চার হয় রাজ্য সরকার। অবশেষে প্রায় ছ’মাস পর কোর্টের নির্দেশে গত ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে মালদহের ইংলিশবাজার থানার অধীন মহদিপুর বর্ডার দিয়ে ভারতে ফেরানো হয় সোনালি ও তাঁর নাবালক ছেলেকে। গত ৫ জানুয়ারি রামপুরহাট মেডিকেলে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সোনালি। পরের দিন মেডিকেলে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নবজাতকের নাম দেন ‘আপন’।  

    দিন দুয়েক হল মেডিকেল থেকে ছাড়া পেয়ে পাইকরে বাবার বাড়িতে আসেন সোনালি। অত্যন্ত দুঃস্থ পরিবারের মেয়ে সোনালি। পাইকরে মাত্র দু’শতক জায়গার উপর জরাজীর্ণ মাটির বাড়িতে বাস করেন বাবা ভোদু শেখ ও মা জ্যোৎস্নারা বিবির। আংশিক খড় ও বাকিটা ত্রিপলের ছাউনি। যা অবস্থা তাতে যে কোনও সময় বাড়িটি ভেঙে পড়তে পারে। সোনালি ও তাঁর স্বামীর নামে কোনও জায়গা বা বাড়ি নেই।

    বুধবার রাত ৮টা নাগাদ সোনালির সঙ্গে দেখা করতে আসেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি। তিনি আপনকে কোলে তুলে স্নেহের পরশ দেন। সেই সঙ্গে ফল, সদ্যোজাতকে শীতবস্ত্র ও কিছু আর্থিক সাহায্য করেন। সোনালি সভাধিপতির কাছে তাঁর স্বামী সহ বাকিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার আবেদন জানান। 

    কাজলসাহেব বলেন, রামপুরহাটে জনসভায় এসে দলের সর্বভারতীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সোনালি যেন বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি পায়। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক এবং বিডিওর সঙ্গে কথা বলেছি। সোনালির নামে বাড়ি বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এখানে এসে জানতে পারলাম এতটাই দুঃস্থ যে সোনালির নামে এক কাঠা জায়গা পর্যন্ত নেই। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে এই এলাকায় সরকারি খাস জায়গা দেখার জন্য বলেছি। সেক্ষেত্রে জেলাশাসককে বলে সোনালির নামে পাট্টা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেব। সরকারি বাড়ি তৈরি করে দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিয়ত সোনালি ও তার সন্তানদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)