বন্দে ভারত স্লিপারের নবদ্বীপের স্টপ নিয়ে কৃতিত্ব দাবি বিজেপির!
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হাওড়া থেকে কামাখ্যা— বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা ঘিরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল নদীয়া জেলায়। চলতি মাসের ১৭ তারিখ এই অত্যাধুনিক ট্রেনটির উদ্বোধন হওয়ার কথা। প্রথম দফায় প্রকাশিত সময়সূচিতে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের নাম না থাকলেও পরে রেল কর্তৃপক্ষ সেখানে স্টপের ঘোষণা করে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে কৃতিত্বের লড়াই। জেলা বিজেপি যেখানে রেলের সিদ্ধান্তকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কটাক্ষ— আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই রেল পরিষেবাকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে। বন্দে ভারত স্লিপারের স্টপ ঘিরে এই টানাপোড়েনেই এখন সরগরম নদীয়া জেলার রাজনীতি।
বৃহস্পতিবার রানাঘাটে বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করে গেরুয়া শিবির। সেখানে ট্রেন চালু হওয়া এবং নবদ্বীপ ধামে স্টপ দেওয়ার কৃতিত্ব তাঁদের বলে দাবি করে বিজেপি নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং একাধিক বিজেপি বিধায়ক। বিজেপির এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের অভিযোগ, রেল পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বর্তমানে কলকাতা থেকে মিজোরামের সাইরাং পর্যন্ত একটি এক্সপ্রেস ট্রেন রানাঘাটের উপর দিয়েই যাতায়াত করলেও সেখানে কোনও স্টপ নেই, অথচ ট্রেনটি কামাখ্যায় থামে। শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও রানাঘাটকে এভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় আগেই রেলকে চিঠি দিয়েছিলেন বলেও দাবি তৃণমূলের। তা সত্ত্বেও সাইরাং এক্সপ্রেস রানাঘাটে না থামার দায় বিজেপিকেই নিতে হবে বলে তারা মনে করছে।
পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রানাঘাট স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ২৮৮ মিটার এবং ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ৩১৬ মিটার। সাইরাং এক্সপ্রেসে ইঞ্জিন বাদ দিয়ে ২০টি যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৪৬ মিটার। ফলে ওই ট্রেনকে রানাঘাটে দাঁড় করাতে গেলে দুই ধাপে থামাতে হবে। সাংসদ জগন্নাথ সরকারের দাবি, প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়াতেই সমস্যা। বর্তমানে সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চলছে, কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে সাইরাং এক্সপ্রেসও রানাঘাটে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু ও নবদ্বীপ ধামে তার স্টপ ঘোষণাকে সামনে রেখে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়া দক্ষিণে নবদ্বীপ কেন্দ্র বিজেপির অধরা থাকায় এই উদ্যোগ বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
যদিও জগন্নাথ সরকারের বক্তব্য, রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তৃণমূল যদি ভয় পায়, সেটাই আমাদের সাফল্য। পাল্টা রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের দেখে মনে হচ্ছে রেল বোর্ড নয়, ওরাই ট্রেন চালাচ্ছেন। মানুষ ইতিমধ্যেই বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই এখন এই ধরনের প্রচারেই ভরসা।