সংবাদদাতা, লালবাগ: এসআইআর আতঙ্কে মুর্শিদাবাদ জেলায় ২৪ঘণ্টার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হল। নাম বিভ্রাটের জেরে নোটিস পেয়েই আতঙ্কে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। মৃতরা হলেন সামশেরগঞ্জের পুটু শেখ(৬৪) ও লালগোলার সাবেরা বিবি(৪২)।
সামশেরগঞ্জ থানার রামেশ্বরপুর নামো চাচণ্ড গ্রামের বাসিন্দা পুটু শেখ। নাম বিভ্রাটের কারণে ওই বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারের সবাইকে বৃহস্পতিবার সামশেরগঞ্জ বিডিও অফিসে শুনানিতে ডাকা হয়। পরিবারের অন্যরা নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে গেলেও পুটু শেখ বাড়িতেই ছিলেন। শুনানি চলাকালীন পরিবারের লোকজন খবর পান, ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা বাড়ি ফিরে তড়িঘড়ি পুটু শেখকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃদ্ধের বউমা বিউটি খাতুন বলেন, শ্বশুরমশাইয়ের নাম কোথাও পুটু শেখ, আবার কোথাও পুট শেখ ছিল। সেকারণে তাঁকে কাগজপত্র সহ শুনানিতে ডাকা হয়। বাড়ির বাকিদেরও ডাকা হয়েছিল। নোটিস পেতেই উনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিলেন না। রাতে ঘুমও হচ্ছিল না। এদিন আমরা শুনানিতে গেলেও উনি বাড়িতেই ছিলেন। শুনানি চলাকালীন এক পড়শি ফোন করে জানান, শ্বশুরমশাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো গেল না। এসআইআরের আতঙ্কেই তাঁর মৃত্যু হল। চাচণ্ড পঞ্চায়েতের সদস্যা হামেদা খাতুনের স্বামী ওয়াসেফ আলি বলেন, শুনানি শুরুর পর থেকেই ওই বৃদ্ধ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। বাড়ির ছেলে-বউমার নামেও নোটিস আসায় তাঁর আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছিল।
লালগোলা থানার উত্তর লতিবেরপাড়ার বাসিন্দা সাবেরা বিবিকে নাম বিভ্রাটের কারণে বুধবার শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওইদিন শুনানি থেকে ফিরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। শেষরাতের দিকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওই মহিলার স্বামী সেতাবুর আলি বলেন, স্ত্রীর পদবি কোথাও বিবি আবার কোথাও খাতুন থাকায় শুনানিতে ডেকেছিল। শুনানি থেকে থেকে ফেরার পরই ও অসুস্থ বোধ করছিল। শেষ রাতের দিকে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচাতে পারলাম না। মৃতার মেয়ে শামিমা খাতুন বলেন, এসআইআরের আতঙ্ক মায়ের প্রাণ কেড়ে নিল।
তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, সামান্য বানান ভুল বা এধরনের বিষয়ের জন্য শুনানিতে ডাকায় আতঙ্কে জেলায় ন’জন মারা গিয়েছেন। যা একেবারেই কাম্য নয়। আর একজনেরও যাতে মৃত্যু না হয়-সেটা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে। আমরা ওই সমস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানাচ্ছি।