• নন্দীগ্রামের মাটিতে রাজনৈতিক স্বাস্থ্য বলিষ্ঠ করতে পদক্ষেপ জোড়াফুলের, তৃণমূল জিতলে সব অঞ্চলেই সেবাশ্রয়: অভিষেক
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, নন্দীগ্রাম: স্বাস্থ্যই সম্পদ। আর সেই স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন বছরের শুরুতেই নন্দীগ্রামবাসীর জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে হাজির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সূত্রে বাসিন্দাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার পথে আরও একধাপ এগোল তৃণমূল কংগ্রেস। এ যেন নন্দীগ্রামের মাটিতে রাজ্যের শাসক দলের রাজনৈতিক ‘স্বাস্থ্য’ বলিষ্ঠ করারই অনন্য পদক্ষেপ। লাইটপোস্টে লাগানো মাইকের চোঙ মারফত দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বার্তা পৌঁছে গেল, ‘আসন্ন নির্বাচনে এলাকার মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন দিলে প্রতিটি অঞ্চলে ‘সেবাশ্রয়’ হবে।’

    অভিষেক সেবাশ্রয় কর্মসূচির সূচনা করেন ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে। অতঃপর একই কর্মসূচি নিয়ে তিনি হাজির হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। এই বিধানসভা আসনটি এখন বিজেপির দখলে থাকলেও অনেকেই সেখানে সেবাশ্রয় কর্মসূচির পরিষেবা চান। এই দাবিতে অভিষেকের দপ্তরে ইতিমধ্যে পাঁচশোর বেশি ফোন গিয়েছে। নন্দীগ্রামবাসীর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় দুটি ব্লকে সেবাশ্রয় কর্মসূচি শুরু করলেন অভিষেক। দুটি ব্লকে দুটি মডেল ক্যাম্প বা শিবির তৈরি হয়েছে, যা কার্যত মিনি হাসপাতাল। বিশিষ্ট চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। রয়েছে জরুরি বিভাগও। ওষুধ মিলছে বিনামূল্যে। শিবির দুটি চলবে ১৫ দিন। উদ্বোধন হল শহিদ পরিবারের হাতে। স্থানীয় মানুষের বিস্তারিত খোঁজখবরও নিয়েছেন দলের সেনাপতি। শিবিরে আগত রোগীদের সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারে ডাক্তারদের সঙ্গেও আলোচনা করেন অভিষেক।

    এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুনিবিড় করতেই তৃণমূল প্রয়াসী বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। উল্লেখ্য, এখানকার সাংসদ এবং বিধায়ক অন্য দলের। ‘কিন্তু বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা এলাকাবাসীর জন্য কোনো কাজ করেননি বলেই তৃণমূলকে এগিয়ে আসতে হয়েছে’—দাবি অভিষেকের। তাঁর বক্তব্য, ‘একুশে যারা ১৯৫৬ ভোটে জিতেছে বলে দাবি করে, তারা ৫৬টি লোকেরও বাড়ির ছাদের ব্যবস্থা করেনি।’ নন্দীগ্রামের মানুষ এবার তৃণমূলকে আশীর্বাদ করলে অভিষেক প্রতিবছর ১৭টি করে ক্যাম্প করার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘নন্দীগ্রামের অঞ্চলে অঞ্চলে সেবাশ্রয় হবে।’ বিজেপি নেতাদের একাংশ অভিষেকের সেবাশ্রয় কর্মসূচির টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের উদ্দেশে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের জবাব, আমার বিরুদ্ধে ছ’বছর ধরে ইডি-সিবিআই লাগিয়ে রেখেছে বিজেপি। কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। তাঁর দাবি, ‘আমার কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না। আর সেবাশ্রয় নিয়ে কৈফিয়ত চাওয়ার কেউ নয় ওরা। পারলে মামলা করুক কিংবা কোনো কেন্দ্রীয় এজেন্সি আমার কাছে তথ্য চাক, দেখাব।’ পরবর্তী ‘ডেস্টিনেশন’ কি বালুরঘাট? অভিষেকের উত্তর, ‘মানুষ চাইলে বালুরঘাটেও হবে, দার্জিলিঙেও হবে।’

    বিজেপির খাস তালুকেই থাবা বসাতে চলেছে তৃণমূল। অভিষেকের কথাতেই তা পরিষ্কার। অন্তত নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক স্বাস্থ্য বলিষ্ঠ করতে তৃণমূল যে পদক্ষেপ করেছে, তাতে সাধারণ মানুষের যথেষ্ট সমর্থনই মিলেছে এদিন। মাঘ পয়লা সন্ধ্যার ঠান্ডার মধ্যেও নন্দীগ্রামের মহিলা থেকে যুব—একযোগে আওয়াজ তুলেছেন, ‘জবাব দেবে বাংলা’।  
  • Link to this news (বর্তমান)