নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ছিল পুণ্যস্নানের সময়। শেষ বেলাতেও সাগরতটে উপচে পড়ল ভিড়। এদিন ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলে স্নান। তবে বেলা গড়াতেই অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গণ। এবার রেকর্ড ভিড় হয়েছে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। সাংবাদিক বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী স্নান সেরে বাড়ি ফিরেছেন। অন্যদিকে, সংক্রান্তির পর্ব মিটতেই মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়ে যায় স্থানীয়দের ভাঙা মেলা। খাবারের দোকান থেকে পোশাক, শাখা-পলা, ঘর সাজানোর সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসে পড়েন দোকানিরা।
বুধবার দিনভর ভিড় থাকায় সারা রাতই ভেসেল ও বার্জ চালাতে হয়েছে। ওই রাতেই কাতারে কাতারে পুণ্যার্থী সাগরের পূণ্যভূমিতে এসেছেন। তাঁরাই মূলত এদিন ভোরে স্নান করতে নামেন। তবে এদিন ফিরতি পথে বহু তীর্থযাত্রীকে বেশ হয়রান হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। কচুবেড়িয়ার অনেক আগে পর্যন্ত বাসের লাইন পড়ে যায়। ফলে ঘাট থেকে বাস পর্যন্ত যেতে অনেকটাই হাঁটতে হয়েছে তাঁদের। ভিড়ের চাপের কারণে অনেকেই হাঁটতে না পেরে রাস্তাতেই বসে পড়েন। তাঁদের খাবার ও জলের ব্যবস্থা করে প্রশাসন। সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, কোথাও সেভাবে অসুবিধা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে সবাই বাড়ি ফিরেছেন।
স্নানের শেষ দিনেও দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত ছিল। সব মিলিয়ে ৮৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪৫৬টি পকেটমারির ঘটনার মধ্যে ৪৩৮টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ৬ হাজার ৬৩২ জন দলছুট হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৬২৭ জনকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, বুধবার গভীর রাতে কচুবেড়িয়া থেকে লট ৮ যাওয়ার পথে একটি যাত্রী বোঝাই বার্জ দিকভ্রষ্ট হয়ে অন্যদিকে চলে যায়। এই ঘটনার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। প্রশাসন জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে একটি ভেসেল পাঠিয়ে সেই বার্জকে জেটির দিকে নিয়ে আসে। এছাড়াও এদিন সকালে এক পুণ্যার্থী স্নান করার সময় ডুবে যাচ্ছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করেন ভারতীয় নৌ-বাহিনীর জওয়ানরা।-নিজস্ব চিত্র