নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নোবেলজয়ী, কবি, সাংসদ, বিধায়ক, বা অসুস্থ ব্যক্তি-এসআইআরের শুনানির হাত থেকে রেহাই পাননি কেউই। এবার শুনানিতে ডাক পেলেন ইসরোর চন্দ্রযান ২ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বাঙালি বিজ্ঞানী অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার বাবা-মাকে নিয়ে হাওড়া প্রাণী বিকাশ ভবনে শুনানিতে হাজির হন অভিজিৎবাবু। সালকিয়া উত্তম ঘোষ লেনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিজিতবাবু। কাজের সূত্রে দীর্ঘদিন সুইডেনে থাকেন তিনি। এখানে তাঁর বাবা কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা পুষ্প বন্দ্যোপাধ্যায় থাকেন। শুনানি প্রক্রিয়ায় হাজির হয়ে অভিজিৎবাবু বলেন, ‘ব্যানার্জি ও বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুই পদবী এক হলেও ভোটার তালিকায় এই সংক্রান্ত কিছু জটিলতা ছিল। তাই আসতে হল। কত বৃদ্ধ মানুষকে চরম ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।’ বিজ্ঞানীর বাবা বলছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই তাঁদের পরিবার উত্তর হাওড়ায় বসবাস করছে। তাও নাকি প্রমাণ প্রয়োজন!’
এদিকে, বয়স্ক-অসুস্থদের নিয়ে টানাটানি চলছেই। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার বাসিন্দা ৬০ বছরের গৃহবধূ হাসি দেশাই নাকে নল নিয়ে বাড়িতেই শয্যাশায়ী। ওই বিধানসভার বাসিন্দা ৯৬ বছরের বৃদ্ধা রাধারানি আগরওয়াল। তাঁদের এসআইআরের শুনানি হল বাড়িতেই। বিএলও সহ বারুইপুর ব্লকের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সইসাবুদ করালেন। বারুইপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মহাতীর্থম বাই লেন এলাকার বাসিন্দা রাধারানি আগরওয়াল। বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। রাধারানি বলেন, ‘এই বয়সেও নিজের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে কাগজে সই করতে হচ্ছে।’ তাঁর ছেলে শংকরপ্রসাদ আগরওয়াল বলেন, ‘মায়ের আধার কার্ড দেখাতে হল শুনানিতে। মাকেও এই বয়সে শুনানিতে বসতে হবে ভাবিনি। তবে ব্লক প্রশাসনের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা কোনো তাড়াহুড়ো না করে ভালো করে কাজ করেছেন।’ ওই ওয়ার্ডের ঋষি বঙ্কিম নগরের বাসিন্দা গৃহবধূ হাসি দেশাই। তাঁকেও বাড়িতে এসআইআরের শুনানিতে বসতে হল। মেয়ে ডালিয়া দেশাই বলেন, ‘মায়ের শরীর খুবই খারাপ। মা দীর্ঘদিন ধরে ভোটার। তাও ২০০২ ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাই শুনানিতে বসতে হল। বাড়িতে এসে ব্যবস্থা করায় ভালোই হল। হাসি দেশাইকে দেখাতে হল তাঁর পাসপোর্ট।’ কিন্তু টিটাগড়ের ৮২ বছরের উমা সেনকে শুনানি কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে শুনানি আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বিএলও জানিয়ে দেন, তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে যেতে হবে। সেই মতো বৃহস্পতিবার কোনওক্রমে টিটাগড়ের মকতব স্কুল শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন উমা দেবী। বয়সের ভারে অসুস্থতার জন্য তিনি সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানান পরিবারের সদস্যরা। একই রকম অভিযোগ জানান প্রাক্তন শিক্ষক করুণাশিস দাস। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। এইভাবে শুনানি কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করা যায়? এইভাবে শুনানি কেন্দ্রে ডেকে মানুষকে বিপদে ফেলার কোন মানে হয় কী?’
বারাকপুর প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে শুনানি করছেন। ৮৫ বছরে ঊর্ধ্বে ভোটারদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে না, তাদের বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। এদিকে, ফর্ম ৭ জমা না নেওয়ার অভিযোগ এনে বাগদা বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে। এবিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে মেইল মারফত অভিযোগ করা হয়েছে। বাগদা বিডিওর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।