পাটুলিতে ধৃত ৩ জাল নোট কারবারি, জেরার পর সোনারপুরে হদিশ কারখানারও
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ শহরতলির সোনারপুরের রাজপুরের তেঘরিয়ায় জাল নোট তৈরির কারখানার হদিশ পেল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। উদ্ধার করা হয়েছে নোট ছাপানোর মেশিন, স্ক্যানার, জাল নোট সহ বিভিন্ন সামগ্রী। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় এই চক্রের তিন চাঁইকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে হদিশ মেলে নোট ছাপার কারখানার। অভিযুক্তরা জাল নোট এখানে ছাপিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করত বলে জানা যাচ্ছে।
এসটিএফের কাছে খবর ছিল, শহরের উপকন্ঠে জাল নোট তৈরি হচ্ছে। বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই কাজ চলছে। জাল নোটের কারবারিরা এখানে এসে এই নোট নিয়ে যাচ্ছে। কারা এই জাল নোট ছাপাচ্ছে, তার খোঁজ শুরু হয়। সোর্স মারফত অফিসাররা জানতে পারেন, বুধবার সন্ধ্যার দিকে পাটুলি এলাকায় জাল নোটের তিন কারবারি আসবে। সেখানে নোটের হাতবদল হওয়ার কথা। সেইমতো এসটিএফের টিম বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হাজির হয় ওই এলাকায়। ছ’টা নাগাদ জালনোট চক্রের তিনজন সেখানে হাজির হয়। সোর্সই ওই তিনজনকে দূর থেকে চিনিয়ে দেয়। এসটিএফের অফিসাররা অলোক নাগ ওরফে বাপি, অয়ন নাগ ওরফে বিকি এবং শ্যামবাবু পাসোয়ানকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে প্রায় দশ হাজার টাকার নকল নোট উদ্ধার হয়। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। জিজ্ঞাসাবাদে অফিসাররা জানতে পারেন, অলোক ও অয়নেৱ বাড়ি নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায়, শ্যামবাবু থাকে খড়দহ থানা এলাকার টিটাগড়ে।
অলোক ও অয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তারা জাল নোট ছাপানোর কারবার খুলেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে নকল নোটের কারিবারিরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এরজন্য অলোক সোনারপুরের রাজপুরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছে। সেখান থেকেই এই কাজকর্ম চলছে। তারপরই তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেওই বাড়িতে পৌঁছয় এসটিএফের টিম। তালা খুলে ঘরে ঢোকার পরই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। দেখা যায়, সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আসল ও নকল নোট। এ ফোর সাইজের কাগজ। তাতে ১০০, ২০০, ৫০০ ও ৫০ টাকার নোট আটকানো রয়েছে। মেলে একাধিক স্ক্যানার মেশিন , কালার প্রিন্টার ও সিকিওরিটি থ্রেড করার জন্য সবুজ রঙের গ্লিটার মার্কার। এর সঙ্গে পাওয়া যায় নোট ছাপানোর জন্য ছোট একটি মেশিন। জাল নোট তৈরির কারখানা থেকে উদ্ধার হয় সম্পূর্ণ ও অসম্পূর্ণ অসংখ্য জাল নোট। সবমিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। সবকিছু বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, প্রথমে আসল কারেন্সি নোট স্ক্যান করা হত। তারপর তৈরি হত জাল নোট। শেষে মেশিনে তা ছাপা হতো। তবে নোটের গুণমান অত্যন্ত খারাপ। বছর খানেক ধরে এই কাজ করছে চক্রটি।