• চড়া রোদ, ১৩ ডিগ্রিতেও ঘামল কলকাতা
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। তবুও গরম। কপাল-পিঠ-গলায় ঘাম। চড়চড়ে রোদ জ্বালিয়ে দিল বৃহস্পতিবারের সকাল-দুপুর। এ কেমন শীত? অবাক কলকাতা।

    আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাল, রোদ চড়া হতেই পারে। আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু বিষয় নয়। আর আবহাওয়ার তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৮ ডিগ্রি কম। সন্ধ্যায় তা আবার পয়েন্ট ৫ ডিগ্রি বেড়ে যায়। শুধু সর্বোচ্চ নয়, সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল স্বাভাবিকের থেকে কম। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের চেয়ে পয়েন্ট ৬ ডিগ্রি কম। অর্থাৎ বুধবারের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। কিন্তু সকাল থেকেই রোদের তেজের কারণে তা মালুম পাওয়া যায়নি। তাই ‘তাহলে কি এই বছরের মতো ঠান্ডায় ইতি?’ এই প্রশ্ন তুলল হতাশ কলকাতা।

    আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, এ সপ্তাহে এমন তাপমাত্রাই থাকবে, ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির আশপাশে। সঙ্গে বইবে উত্তুরে হাওয়া। শহরবাসীর বক্তব্য, বেশ কয়েকদিন বাদে এরকম চড়া রোদ! পিঠ পুড়িয়ে দিয়েছে প্রায়। বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দুপুরের দিকে গরম লেগেছে। কিন্তু এরকম অদ্ভুত গরম খুবই কম পেয়েছি।’ শহরের প্রশ্ন, ‘তাহলে কি শীত এবার বিদায় নিতে চলেছে?’ যদিও আবহাওয়াবিদরা এখনই বলছেন না যে, শীত একেবারে বিদায় নিচ্ছে আগামী সপ্তাহে। কামব্যাকের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়েই তাঁরা বলছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে পারদ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আবার যে পতন হবে না, সে কথা এখনই বলা মুশকিল।

    বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় কুয়াশা ছিল। আর কলকাতায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়া রোদ। তার তেজ এমনই যে হাতে একটা ছাতা থাকলেই যেন ভালো হয়। তবে শহরের আশপাশের এলাকাগুলিতে ছিল হালকা থেকে মাঝারি ঠান্ডা। সল্টলেকের তাপমাত্রা ১৪.৬ ডিগ্রি, দমদমে ১৩.৬। বারাকপুরে তাপমাত্রা কমে হয় ১১.৪ ডিগ্রি। উলুবেড়িয়া ও মগরার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ও ১২ ডিগ্রি। বসিরহাটে ১২। উপকূলবর্তী এলাকার মধ্যে ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং ও কাকদ্বীপের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৩, ১১.৪, ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    তবে কলকাতায় এদিন অশনি সংকেত হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে চড়া রোদ। আসন্ন গ্রীষ্মের কথা স্মরণ করে কলকাতার পথেঘাটে শুরু হয় আশঙ্কাজনক আলোচনা। দুপুরে ধর্মতলায় মেট্রো থেকে নেমে ছাতা খুললেন এক প্রৌ‌ঢ়। তিনি দমদমের বাসিন্দা। নাম শ্যামল পাল। বললেন, ‘শীতের বিদায় মনে হয়, হয়েই গেল। আজকে যা রোদ দিয়েছে, তাতে তো তাকানো যাচ্ছে না। সেই গরমকালই যেন চলে এল জলদি।’ তবে সূর্য অস্ত যেতেই ঠান্ডা বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যায় শিয়ালদহে দাঁড়িয়ে এক বাইকচালক বলেন, ‘সকালের দিকে গরম ছিল। কিন্তু এখন বাইক চালাতে গিয়ে বেশ ঠান্ডা লাগছে।’ এদিন কলকাতা একটাই প্রশ্ন ঘুরেফিরে করে গিয়েছে, ‘শীত কি আর কয়েকদিন থাকতে পারে না?’ 
  • Link to this news (বর্তমান)