• স্ত্রীকে শুনানির নোটিস ধরালেন বিএলও স্বামী
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা তারকেশ্বর: তথ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। তবুও শুনানিতে আসতে হবে বলে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। তারকেশ্বর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোৎশম্ভুর বাসিন্দা সুস্মিতা মজুমদার। তাঁর হাতে শুনানির নোটিস ধরালেন ২৪৮ নম্বর বুথের বিএলও রাজশেখর মজুমদার। ঘটনাচক্রে নোটিসদাতা এবং নোটিসগ্রহীতা দু’জন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। এরপর প্রশ্ন উঠল, ‘নির্বাচন কমিশনের নোটিসে ডাক পাওয়া ভোটার যদি হন বিএলও’র স্ত্রী তাহলে সেই ভোটার প্রশ্ন করবেন কাকে?’

    ১ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪৮ নম্বর বুথের বিএলও রাজশেখরবাবু। তিনি তারকেশ্বর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। বললেন, ‘আমার স্ত্রী সুস্মিতা মজুমদারকে নোটিস তুলে দিতে হয়েছে আমাকেই। ১৬ জানুয়ারি তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।’ বিএলও জানান, যে নোটিসটি আমার কাছে পাঠানো হয়েছে তাতে লেখা, আমার স্ত্রীর বয়সের থেকে তাঁর দাদু ভূপেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়সের ব্যবধান ৪০ বছরের কম। যদিও ভোটার কার্ড অনুযায়ী ভূপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বয়স জীবিত থাকলে ১০৫ বছর হত। ২০১০ সালে তিনি মারা যান। ২০০২ সালে আমার শ্বশুরমশাই সুব্রত চট্টোপাধ্যায় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সে কারণে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে তাঁর নাম নেই। তাই স্ত্রীর ইনিউমারেশন ফর্মে আত্মীয়ের জায়গায় দাদু ভূপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ভোটার কার্ডের নম্বর দেওয়া আছে। বর্তমানে আমার স্ত্রীর বয়স ৩৭। অর্থাৎ নথি মোতাবেক দাদু ও নাতনির বয়সের ব্যবধান ৬৮ বছর। তা সত্ত্বেও কোন অদ্ভুত হিসেবে এই নোটিস পাঠানো হল তা বোঝা যাচ্ছে না। আমার স্ত্রী শুধু নন, অনেকেরই অভিভাবকের জায়গায় অদ্ভুত সব নাম লেখা থাকছে। সুস্মিতা মজুমদার বলেন, ‘বিএলও আমার স্বামী। তিনি আমাকে নোটিস দিয়েছেন। ওঁর কোনো দোষ এ ক্ষেত্রে নেই। আমার বাপের বাড়ি জাঙ্গিপাড়া থানার প্রসাদপুরে। শ্বশুরবাড়িতে আসার পর ভোটার কার্ডে নাম ওঠে আমার। নির্বাচন কমিশন এই ধরনের নোটিস দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রবল সমস্যার মুখে ফেলছে।’ তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় জানান, ‘আমি বিডিও অফিসে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশনের নোটিস পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে ভোটার কার্ড গ্রাহ্য করা হবে না। অন্যদিকে সেই ভোটার কার্ডের বয়স অনুযায়ীই নোটিস পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনে কর্মরত কর্মীরাও দিতে পারছেন না। সকলেই দিল্লির দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তোলা হচ্ছে। বহু মানুষকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিয়েছে এই এসআইআর।’ -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)