• আধার ‘উধাও’! খারিজ অ্যাডমিটও, নথি নিয়ে ফের কমিশনের তুঘলকি ফরমান, নাকাল জনতা
    বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বর্ধমান: এসআইআরে আধার কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসাবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপর একরকম বাধ্য হয়েই আধারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। এবার চুপিসারে সেই আধারকেই গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে! বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইআরওদের মৌখিক নির্দেশে জানানো হয়েছে, শুনানিতে আধার গ্রহণ করলেও তা ইসিআই নেটে আপলোড করা যাবে না। সেইসঙ্গে এদিন লিখিত নির্দেশিকা জারি করে বলে দেওয়া হয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এসআইআর শুনানিতে গ্রহণযোগ্য নথি বলে গণ্য করা যাবে না। 

    রাজ্যজুড়ে এখন এসআইআরের শুনানি চলছে। আর কমিশনের তুঘলকি ফরমানে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ বাড়ছে আম জনতার। শুনানিতে উপস্থিত ভোটার নথি পেশ করার পর তা ইসিআই নেটে আপলোড করছেন শুনানির দায়িত্বে থাকা এইআরওরা। জানা যাচ্ছে, বুধবার পর্যন্ত নথি হিসাবে আধার আপলোড করা যাচ্ছিল। সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী দিতে হচ্ছিল অন্য কোনও একটি নথি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলায় জেলায় আধার আপলোড করা যাচ্ছে না। পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদের মতো জেলা থেকে বেশ কিছু এমন উদ্বেগের চিত্র সামনে এসেছে। ইআরওদের বক্তব্য, মৌখিকভাবে তাঁদের আধারকে মান্যতা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকী বিএলওরাও অনেকে আধার আপলোড করতে পারছেন না বলে জানাচ্ছেন ইআরওরা। এক আধিকারিক বলেন, ‘হঠাৎ করেই কেন আধার কার্ড আপলোড বন্ধ হয়ে গেল? আগাম জানতেও পারলাম না। ইআরও বা এইআরওদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন আধার কার্ড বৈধতা পাবে না, তা অনেকেই জানতে চাইছেন।’

    কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যাঁদের বাবার নামের সঙ্গে গরমিল ছিল, তাঁরা আধার কার্ড দেখিয়ে বৈধতা প্রমাণ করছিলেন। এছাড়া যাঁদের ছয় বা তার বেশি সন্তানের পিতা-মাতা হিসাবে যাঁদের ‘সন্দেহজনক’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরাও শুনানিতে আধার দেখিয়ে বাবা-মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করছিলেন। হঠাৎ আধার আপলোড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই সুযোগ আর রইল না। তালিকায় থাকার পরও পোর্টাল থেকে আধার কার্ড আপলোডের ‘অপশন’ বন্ধ হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। 

    বর্ধমানে শুনানি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো ৬১ বছরের বৃদ্ধ অনুপম দাস বলছিলেন, ‘একসময় আধার কার্ড তৈরির জন্য মানুষকে রাত জাগতে হয়েছিল। ডাকঘরগুলির সামনে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে সব বয়সি লোকজনের ভিড় উপচে পড়েছিল। শীত উপেক্ষা করেই আমরা সেইসময় ডিসেম্বর মাসে খোলা আকাশের নীচে কাটিয়েছি। সেই আধার কার্ডও নির্বাচন কমিশনের কাছে বৈধ নয়!’ এক আধিকারিক বলেন, ‘কেন আধার কার্ড আপলোড বন্ধ করে দেওয়া হল তা জানতে কমিশনের শীর্ষকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। উত্তর মেলেনি।’

    গোদের উপর বিষফোঁড়া আবার মাধ্যমিকের অ্যাডমিট। বুধবার পর্যন্ত মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছিল। শুনানিতে ডাক পাওয়া বহু ভোটার ইতিমধ্যেই নথি হিসাবে আ্যাডমিট দাখিল করেছেন। তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না, জানতে চেয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর দিল্লিতে চিঠি লিখেছিল রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। এদিন লিখিত নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড যেহেতু ১৩ নথির মধ্যে নেই, তাই তা গ্রহণযোগ্য হিসাবে গণ্য করা হবে না। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এতদিন কেন শুনানিতে নথি হিসাবে অ্যাডমিট কার্ড নেওয়া হল? মানুষের এই হয়রানির জবাব কে দেবে? 
  • Link to this news (বর্তমান)