মৃতদেহের উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা ৪ দিন ধরে মর্গে পড়ে রয়েছে বৃদ্ধার দেহ
বর্তমান | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মৃতদেহের উত্তরাধিকার কার? এই প্রশ্নেই আটকে গিয়েছে শেষকৃত্য। উত্তরাধিকার শংসাপত্র দেখাতে না পারায় টানা চারদিন ধরে হাওড়া মর্গে পড়ে পচছে এক বৃদ্ধার দেহ। সরকারি জটিলতার ফাঁদে পড়ে মৃতার ভাইপো ও তাঁর পরিবারকে কখনও মর্গ, কখনও আবার গোলাবাড়ি থানায় ছুটতে হচ্ছে। চরম ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের।
ঘটনাটি উত্তর হাওড়ার পিলখানার অবনী দত্ত রোডের। গত রবিবার রাতে ওই এলাকার একটি পুরনো বাড়ির দোতলার ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৭০ বছরের রাধারানি সাউয়ের। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না তাঁর ভাইপো দিলু সাউ ও তাঁর ছেলে। প্রতিবেশীদের থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এরপরই শুরু হয় জটিলতা। ময়নাতদন্তের পর দেহ ছাড়াতে গেলে দিলুবাবুকে জানানো হয়, একইসঙ্গে আরও তিনজন মৃতার উত্তরাধিকার বলে দাবি করে দেহ নিতে চেয়েছেন। কিন্তু কেউই সেই দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। দিলুবাবু পিসির দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও ভাইপো হিসেবে সম্পর্কের কোনও নথি দেখাতে না পারায় দেহ তাঁর হাতেও তুলে দেওয়া যাচ্ছে না বলে খবর। ফলে চারদিন ধরে মর্গেই পড়ে রয়েছে মৃতদেহ।
দিলুবাবুর দাবি, অবনী দত্ত লেনের বাড়িতে তিনি ছাড়া আরও এক ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। দুই বোন বিবাহসূত্রে অন্যত্র বসবাস করেন। তাঁর অভিযোগ, সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কেউ কেউ এখন থানায় গিয়ে মৃতদেহের দাবিদার সাজার চেষ্টা করছেন। এই টানাপোড়েনে শেষকৃত্য করা যাচ্ছে না পিসির। উত্তরাধিকার শংসাপত্র পেতে তিনি এসডিও (সদর) অফিসের দ্বারস্থ হলেও সেখান থেকেও সুরাহা মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন দিলুবাবু। হাওড়া আদালতের আইনজীবী স্বপন কোলে ও অনিন্দ্য রায় জানান, এসডিও অফিস থেকে বলা হয়ছে, বর্তমানে এসআইআর নিয়ে শুনানি চলায় এখন শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব নয়।
স্বপনবাবু বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার আইনে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, মৃত্যুর পর দ্রুত নিকটাত্মীয়ের হাতে দেহ তুলে দিতে হবে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেহ আটকে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।’ এদিকে, হাওড়া সিটি পুলিশের দাবি, একাধিক ব্যক্তি মৃতদেহের উত্তরাধিকার হিসেবে দাবি করায় যিনি বৈধ শংসাপত্র দেখাতে পারবেন, তাঁর হাতেই দেহ তুলে দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিলুবাবু। -নিজস্ব চিত্র