এই সময়, চন্দ্রকোণা: পা-হাত অকেজো। হামাগুড়ি ছাড়া নড়তে পারেন না। তবু হাজির হতে হল 'সার'-এর (স্পেশাল ইনটেনসিভরিভিশন) শুনানিতে। চন্দ্রকোণার হুড়হুড়িয়া গ্রামের ৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা ৩৩ বছরের কুরবান আলি খান বৃহস্পতিবার চন্দ্রকোণা-২ বিডিও অফিসে শুনানিতে পৌঁছলেন ভাইয়ের কোলে চড়ে। কুরবানের সাথে ডাক পড়েছিল তাঁর ভাই সবুর আলি খান, সেলিম খানের। কুরবান জন্ম থেকেই বিশেষ ভাবে সক্ষম। বৃহস্পতিবার বিডিও অফিসে ভাইদের সাথে তাঁকেও হাজিরা দিতে হয় শুনানিতে।
বিএলও ফজলুল হক বলেন, 'কুরবান আলি খান সহ আট ভাইবোন তাঁদের বাবার ২০০২-এর ভোটার তালিকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করায় শুনানির নোটিস দেওয়া হয়।' কুরবান বলেন, 'দাঁড়াতে পারি না। এতো নিয়ম মানতে গিয়ে হয়রানির শেষ নেই। আমাকে এতদূর নিয়ে আসতে ভাইদেরও কম হয়রান হতে হয়নি!' হয়রানির শিকার চন্দ্রকোণার শীর্ষা গ্রামের ৩৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা লক্ষ্মী জানা। লক্ষ্মীর শ্বশুর শশধর জানা গত ১০ জানুয়ারি মারা যান। স্বামী সম্রাট ক্ষুদ্র চাষি। লক্ষ্মী তাঁর বাবার ২০০২-এর ভোটার তালিকা দিয়ে এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন।
সহকারী বিএলও স্নেহাশিস মণ্ডল জানান, বাবার নামে ত্রুটি থাকায় তাঁকে ডাকা হয় শুনানিতে। স্ত্রীকে শুনানিতে ডাকায় পারলোকিক নিয়ম চলাকালীনই কাছা পরে তাঁকে ও সন্তানকে নিয়ে সম্রাট হাজির হয়েছিলেন শুনানিতে। তিনি বলেন, 'বাড়িতে আর কেউ নেই যে ওকে নিয়ে আসবে। বাধ্য হয়ে এ ভাবেই এসেছি।' ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নামের বানানে ভুল থাকায় এদিন শুনানিতে ডাক পড়েছিল চন্দ্রকোণার ঝাঁকরা গ্রামের উমাপদ ভাণ্ডারির।
উমাপদ বলেন, 'দিন পনেরো আগে পড়ে গিয়ে ডান পা ভেঙে যায়। লাঠি নিয়ে কোনওরকমে হাঁটছি। বাধ্য হয়েই ছেলেকে নিয়ে টোটোয় চড়ে শুনানিতে এসেছি।' চন্দ্রকোণা-২ এর বিডিও উৎপল পাইক বলেন, 'আগাম খবর থাকলে বা আমাদের কাছে খবর এলে আমরা সব রকম সহযোগিতা করছি ভোটারদের। কমিশনের যা গাইডলাইন সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।'