• নিপা আতঙ্কে রসের স্বাদে কোপ, বিপাকে শিউলিরা
    এই সময় | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, মেদিনীপুর: নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে বাদুড়ে খাওয়া ফল বিশেষ করে খেজুর রসের ব্যাপারে সর্তক করেছেন চিকিৎসকেরা। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য টাঙানো হাঁড়িতে বাদুড়ের সংস্পর্শের সম্ভাবনা যথেষ্ট। আর এই সম্ভাবনা থেকেই সতর্ককার কারণে গ্রামেগঞ্জে খেজুরের রস বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। যাতে চিন্তায় পড়েছেন রসের কারবারীরা। খেজুর রস থেকে নিপা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে জঙ্গলমহল থেকে শহর-সর্বত্র। শীতের মরশুম মানেই পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ জঙ্গলমহল জুড়ে খেজুর রস সংগ্রহ আর গুড় তৈরির ধুম।

    কিন্তু নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত খবরের জেরে সেই চেনা ছবি বদলে গিয়েছে। গাছ থেকে হাঁড়ি নামানোর পরে খেজুর রস খাওয়া নিয়ে এখন আতঙ্কে মানুষজন। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রসের বিক্রিতে। মাথায় হাত শিউলিদের। প্রতি বছরের মতো এবারও বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে বহু শিউলি খেজুর রস সংগ্রহে পশ্চিম মেদিনীপুরে এসেছেন। শীত পড়লেই তাঁরা অন্য সব কাজ ছেড়ে জঙ্গলমহলে পাড়ি দেন। কারণ এখানে খেজুর গাছের সংখ্যা বেশি। রসের মানও ভালো এবং আয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

    কিন্তু চলতি বছরে নিপা ভাইরাসের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জীবিকা সংকটে শিউলিরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। শীতকালে খেজুর গাছে ঝোলানো খোলা মুখের হাঁড়িতে বাদুড়, পাখি, কাঠবেড়ালি এমনকী চামচিকেও টু মারে। ফলে হাঁড়ির রসে বাদুড়ের লালা বা মূত্র মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই রস পান করলে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাঁড়ির মুখে জাল বা কাপড় বাঁধা থাকে না। এই কারণেই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে খেজুর রস না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    শালবনির জয়পুরে রস সংগ্রহ করতে আসা সফিকুল ইসলাম বলেন, 'এ বার ঠান্ডা ভালো পড়ায় রসও ভালো নামছিল। বিক্রিও ঠিকঠাক হচ্ছিল। গত কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রিবাটা ভালো হওয়ায় স্বস্তিতে ছিলাম। কিন্তু বাদ সাধল বাদুড়। নিপা ভাইরাসের খবর ছড়াতেই এক ধাক্কায় বিক্রি অনেক কমেছে।' একই কথা শোনালেন চাঁদড়ার রবিউলরা। তাঁদের কথায়, 'আগে প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি গুড় তৈরি হত। পাশাপাশি রসও বিক্রি হত। এখন আতঙ্কে রস বিক্রি প্রায় বন্ধ। সবটাই গুড় বানাতে হচ্ছে।' নিপা নিয়ে আতঙ্কে শহরবাসীও। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সায়ন্তী রানা ও পিয়ালি স্যান্যাল বলেন, 'সংবাদপত্রে নিপা ভাইরাসের খবর দেখে এবছর খেজুর রস খাওয়ার পাঠ চুকিয়ে দিয়েছি। সব মিলিয়ে, নিপা ভাইরাসের থাবায় শুধু মানুষের মনে আতঙ্কই ছড়ায়নি। বিপাকে খেজুর রসের ওপর নির্ভরশীল বহু শিউলির জীবন-জীবিকাও।

  • Link to this news (এই সময়)