• মায়াপুর ইসকনে বড়সড় জালিয়াতির পর্দাফাঁস, বিপাকে হাজার হাজার ভক্তরা...
    ২৪ ঘন্টা | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন ঘোষাল: মায়াপুর ইস্কন গেস্ট হাউজে রুম বুকিং ওয়েবসাইটে প্রতারিত কয়েক হাজার ভক্ত ও পর্যটক। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের।

    শীতের মরশুম এবং গঙ্গাসাগর মেলা। নদীয়ার মায়াপুর ইস্কন মন্দিরে বছরের এই সময়টায় ভক্ত সমাগম অত্যন্ত বেশি। এই পরিস্থিতিতে ইস্কন মায়াপুর গেস্ট হাউস রুম বুকিং-এর একটি বড় প্রতারণা চক্রের হদিশ পেল ইস্কন। অনলাইন গেস্ট হাউস রুম বুকিং-এর নামে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বহু ভক্ত ও পর্যটক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই প্রতারণা চক্রের ফাঁদে। এই ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষ সাইবার ক্রাইমে এফআইআর দায়ের করেছে। প্রতারকরা একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট ও হোয়াটসঅ্যাপ-ভিত্তিক ফেক বুকিং চ্যানেল তৈরি করেছে।

    যেখানে মায়াপুরের পরিচিত আন্তর্জাতিক মানের গেস্ট হাউজ প্রভুপাদ ভিলেজ, ইসোদ্যান, গাদা ভবন, কঞ্চ ভবন ও গীতা ভবনে ঘর দেওয়ার মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে। অ্যাডভান্স বুকিং মানি ফুল এন্ড ফাইনাল পেমেন্ট নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে ভুয়ো বুকিং রসিদ। সেই রসিদ নিয়ে সরাসরি মন্দিরে এসে মানুষ বুঝতে পারছেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। এক সংখ্যাটা বিগত মাত্র ১৫ দিনেই কয়েক হাজার। একটি সম্পূর্ণ ফেক ওয়েবসাইট  www.prabhupadvillage.com। একই ধরনের আরও বহু ভুয়ো ওয়েবসাইট সক্রিয় রয়েছে। এই ওয়েবসাইটগুলি দেখতে অত্যন্ত পেশাদার ও বিশ্বাসযোগ্য ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ভাড়ার তুলনায় আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে মানুষকে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। মানুষ সেই ফাঁদে না বুঝে পা দিচ্ছেন। ইস্কন জানিয়েছে তাদের অনুমোদিত জেনুইন পোর্টাল মাত্র একটিই-- https://www.visitmayapur.com/

    এছাড়া অন্য কোনও ওয়েবসাইট, এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা ফোন কলের মাধ্যমে করা বুকিং অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ, বলে সতর্ক করেছে ইস্কন। 

    পরিবারগুলো চরম বিপাকে। এই প্রতারণার প্রভাব অত্যন্ত মর্মান্তিক। উৎসবের সময় ঘর দুর্লভ হয়ে পড়ায় বহু মানুষ অনলাইনে মরিয়া হয়ে খোঁজ করতে গিয়ে এই ভুয়ো পোর্টালের ফাঁদে পড়ছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে- অনেক সময় বিদেশ থেকেও পরিবার-সহ মায়াপুরে এসে অনেকেই জানতে পারছেন যে তাঁদের বুকিং আদৌ অস্তিত্বহীন। 'বয়স্ক বাবা-মা ও শিশুদের নিয়ে মানুষ নিশ্চিত বুকিংয়ের আশা করে আসেন, আর এখানে এসে জানতে পারেন তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। বহু ক্ষেত্রে পুরো টাকাটাই হারিয়ে গেছে,' বলেন রাধারমণ দাস।

    এফআইআর দায়ের হয়ে গিয়েছে, তদন্ত চলছে। আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাধারমণ দাস, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, আইএসকন কলকাতা জানান, এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ স্তরে জানানো হয়েছে।

    জনসাধারণের জন্য পরামর্শ: আইএসকন ভক্ত ও পর্যটকদের অনুরোধ করেছে- রুম বুকিং করুন শুধুমাত্র: https://www.visitmayapur.com/

    হোয়াটসঅ্যাপ-ভিত্তিক বুকিং, ব্যক্তিগত ফোন কল বা এজেন্ট এড়িয়ে চলুন। ছাড়, তাড়াহুড়োর দাবি বা অনানুষ্ঠানিক আশ্বাসে বিভ্রান্ত হবেন না। টাকা দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ভালোভাবে যাচাই করুন। মন্দির কর্তৃপক্ষ সকলকে এই সতর্কবার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে, যাতে মায়াপুরে এক পবিত্র ও আধ্যাত্মিক যাত্রা কোনওভাবেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত না হয়।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)