• পথের ঔজ্জ্বল্য ফিরবে কবে, প্রশ্ন রাজারহাট গ্রামীণের বাসিন্দাদের
    আনন্দবাজার | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • ঝাঁ-চকচকে নিউ টাউনের পাশে রাজারহাট গ্রামীণ এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘এ যেন প্রদীপের নীচে অন্ধকার।’’ সম্প্রতি রাজারহাটের বাদামতলা এবং যাত্রাগাছি এলাকায় দু’টি দুর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুর পরে ফের তাঁদের এমন আক্ষেপ সামনে এসেছে।

    গত মঙ্গলবার গভীর রাতে যাত্রাগাছি এলাকায় খালপাড়ের রাস্তায় দু’টি মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুই তরুণ চালকের। তার আগে, গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজারহাটের বিষ্ণুপুর-পাথরঘাটা রোডের বাদামতলার কাছে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল নিতাই সর্দার নামে এক ভ্যানচালকের। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, ‘‘দুর্ঘটনার জন্য তীব্র গতিবেগ যেমন দায়ী, তেমনই অন্ধকারময় অবস্থাকেও পুরোপুরি অস্বীকার করা যাবে না।’’ শুধুমাত্র দুর্ঘটনাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুরক্ষার বিষয়টিও।এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, পরিকল্পিত নিউ টাউন যে ভাবে আলোয় মুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেই তুলনায় লাগোয়া রাজারহাট গ্রামীণ এলাকা তত উজ্জ্বল নয়। আলো রয়েছে ঠিকই, তবে তাকে পর্যাপ্ত কিংবা আধুনিক মানের বলা যায় না। বড় রাস্তা থেকে গলিপথ, কিংবা খালধারের রাস্তা অন্ধকারময়। আবার আলো যেখানে আছে, সেখানে গাছপালা থাকার কারণে আলো-আঁধারি ভাব পুরোপুরি কাটে না।

    এক গাড়িচালক প্রকাশ দাসের কথায়, ‘‘রাজারহাট গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় যে সব বাঁক রয়েছে, কম দৃশ্যমানতায় সেখানে বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। বিশেষত, সাইকেল এবং ভ্যানচালকদের সমস্যা হতে পারে।’’

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানাচ্ছেন, আলোর অভাবে শুধু যে দুর্ঘটনা ঘটে, তা-ই নয়। বহু ছাত্রছাত্রী পড়তে যায়, অনেক তরুণী কর্মক্ষেত্র থেকে রাতে বাড়ি ফেরেন। তাঁদের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, এর আগে নিউ টাউনে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন অত্যাচার করে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

    সম্প্রতি বিধাননগর পুলিশের টেকনো সিটি থানা এলাকার সাপুরজি, লস্করআটি, পাথরঘাটা, বালিগড়ি সেতু-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, নজরদারি ও নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা বসানো ভাল পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি আধুনিক মানের উজ্জ্বল আলো লাগানো হলে পুলিশের পক্ষে যেমন নজরদারিতে সুবিধা হবে, উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষও।

    রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর কর জানান, আলোর সমস্যা সম্পর্কে তাঁরা ওয়াকিবহাল। আরও আধুনিক মানের উজ্জ্বল আলো লাগানো প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী হাই মাস্ট-সহ আধুনিক মানের আলো লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েতের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও বাসিন্দাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)