• জীবনের প্রতিকূল সময়েই পাওয়া যায় তাঁর ‘দর্শন’
    এই সময় | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • ‘….বাঈজীর প্রেমে পড়েছেন বাবু নিশানাথ, আদর করে তার নাম রেখেছেন কমলিনী। নিশানাথ বিবাহিত। ছেলে-মেয়েও আছে। চলছিল ঠিকই, কিন্তু বাধা দিলেন নিশানাথের বাবা। এই অবৈধ সম্পর্কের কারণে নিশানাথকে তিনি ত্যাজ্য-পুত্র ঘোষণা করলেন। এক লহমায় নিশানাথ যেন পথের ভিখারি বনে যান। আর্থিক কারণে টান পড়ে আভিজাত্যেও। এমন সময়ে নিশানাথের জন্য দরজা খুলে দিল কমলিনী। ভরসা জুগিয়ে বলল, ‘তুমি আমার কাছে থাকবে বড়বাবু?’

    সময়ের নিয়মে তারপর বছর ২০ কেটে গিয়েছে। কোথায় হারিয়ে গিয়েছে কমলিনী, সেই মেজাজি নিশানাথও আর তেমন নেই। সে এখন ব্যাধিগ্রস্ত, অর্ধ উন্মাদ। দেখলে এখন তাঁকে চেনা যায় না। পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সে উন্মাদের মতো। নিশানাথের এখন যে কেউ নেই। এমন মুহূর্তে উদয় হলেন তিনি। শান্ত-সৌম্য অথচ প্রশান্তি তাঁর চোখে মুখে। অভয়ও দিলেন। তিনি যে আচার্য স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ। বললেন ‘যার কেউ নেই তার আমি আছি’। পরিবর্তন এল নিশানাথের জীবনে, এই নিয়েই ছবি ‘রোগ মুক্তি’। ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রযোজনায় স্বামী সারস্বতানন্দের লেখা ‘স্বামী প্রণবানন্দজীর সাধনা ও অলৌকিক লীলা’ সংকলনটি থেকে নেওয়া একটি কাহিনি থেকেই নির্মিত হয়েছে এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিটি। নির্দেশকের ভূমিকায় এ বার কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়। এই সংকলনের বেশ কয়েকটি অলৌকিক কাহিনি নিয়ে তিনি নির্মাণ করছেন স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি। নির্দেশকের ভূমিকায় তাঁর এই অসাধারণ দক্ষতা দর্শকদের কাছে অবশ্যই বাড়তি পাওয়া।

    স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকায় অভিনয় করছেন মনসিজ জানা। নিশানাথের বাবার ভূমিকায় তাপস চক্রবর্তী। নিশানাথের ভূমিকায় শংকর ঘোষ এবং কমলিনীর ভূমিকায় চৈতালি রায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন। থিয়েটারে দীর্ঘদিনের দক্ষ অভিনেতা শংকর ঘোষ এই শর্টফিল্ম -এ অবশ্যই সেরা তকমা পাবেন নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিপ্রদাসের ভূমিকায় রণদীপ মন্ডল, সচ্চিদানন্দের ভূমিকায় শোভনলাল ঘোষ। অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন সংযুক্তা বসু, অনুপ ভট্টাচার্য্য, সুমন্ত বিশ্বাস, সারেঙ্গী বাদক রামলাল মিশ্র ও সহশিল্পী শান্তদীপ সরকার, অনিকেত মান্না, সানি কুমার, কিরাট, পূজা, অংশুধরা, আঙুর বালা ও অন্যান্যরা। সহযোগী পরিচালক রূপক সেন ও নীতা মুখোপাধ্যায়। ক্যামেরায় অগ্নিজিতা মুখোপাধ্যায়। ছবিগুলি ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে।
  • Link to this news (এই সময়)