• কড়া ঠান্ডায় প্রবল ছেঁকা দিচ্ছে শীতের আনাজ, বাজারে ঘাটতি
    এই সময় | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: শীতের সকালে বাজারে গেলে সাধারণত মন ভালো হয়ে যায়। কারণটা আর কিছুই নয়, সবুজে ছেয়ে থাকে বাজার। স্বস্তির আরও একটা বড় কারণ, ১০০ টাকাতেই বাজারের থলে উপচে পড়ে আনাজে। জোড়া ফুলকপি ২০-৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, বেগুন-টোম্যাটো মিলে এক কেজি, দু’আঁটি শাক—১০০ টাকাতেই হয়ে যায় সাধারণত। এই ক’দিন আগে পর্যন্ত তেমনই হচ্ছিল। তবে এখন বাজারে উল্টো ছবি। এক জোড়া ফুলকপি কিনতেই বেরিয়ে যাচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। ভরা শীতে টোম্যাটো-মটরশুঁটিতে হাত ছোঁয়ানো যাচ্ছে না।

    এমন কড়া শীতে আনাজের দাম কেন এমন ঊর্ধ্বমুখী? বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাজারে আনাজের জোগানে ঘাটতি। আর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশ কিছুটা নীচে নেমে যাওয়ায় ফলন মার খাচ্ছে। তার ফলে স্থানীয় চাষিদের টোম্যাটো, বেগুন, কড়াইশুঁটি বাজারে আসছে না। আরও কিছু কারণ রয়েছে। তবে, এই বাজারে দাম বৃদ্ধিতে ফড়ে বা খুচরো ব্যবসায়ীদের হাতযশও কিছুটা রয়েছে—এমনটাও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের টাস্কফোর্স জানিয়েছে, শনিবার থেকে তারা বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাবে।

    এ বছর পুজোর সময়ে এবং তার আগে অকাল বৃষ্টিতে মার খেয়েছিল চাষ। যাঁরা ফুলকপি-সহ অন্যান্য আনাজের আগাম চাষ করেছিলেন, সে সব মাঠে মারা যায়। তার পরে জমি তৈরি করে অনেক চাষি এক সঙ্গে আনাজ বুনেছিলেন। শীতের শুরু থেকে মাঝামাঝি সে সব ফসল বাজারে এসে যায়। তার ফলে দাম অনেকটাই কমে যায়। ভালো মাপের একটি ফুলকপির ১৫ টাকা বা তার নীচে নেমে আসে। শুরু দিকে বেগুনের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও পরে তা–ও ৩০-৪০ টাকা কেজিতে নেমেছিল। দর নেমেছিল বিট-গাজরেরও। তবে কড়াইশুঁটি-টোম্যাটোর দাম এ বার তেমন নামেইনি। কারণ এগুলির পুরোটাই ভিন রাজ্য থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

    জানুয়ারির মাঝামাঝি কবে ৬০ টাকা কেজি দরে টোম্যাটো কিনেছেন বাংলার বাসিন্দারা, তা মনে করতে পারছেন না প্রায় কেউই। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অসময়ের বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে বেশিরভাগ ফসল এক সঙ্গে বাজারে এসে যায়। এ বছর তেমনই হয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে কড়া শীত। এ বছর বাংলা জুড়ে শীত ভেল্কি দেখাচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে নীচে নামলে ফসলের ফলন কমে যায়। ফসলের বৃদ্ধিও থমকে যায়। তার ফলে স্থানীয় জমির টোম্যাটো-কড়াইশুঁটি বাজারে আসতে সময় লাগছে। ফলন কমেছে বেগুন-সহ অন্যান্য আনাজেরও। সেই জন্যই দাম বাড়ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়লে ফলন স্বাভাবিক হবে। তখন ফের দাম কমতে শুরু করবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)