• পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে বিক্ষোভ বেলডাঙায়, জেলাশাসকের আশ্বাসে উঠল অবরোধ
    এই সময় | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • ভিন রাজ্যে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ডালখোলা-বকখালি জাতীয় সড়কের একাংশে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি বেলডাঙা স্টেশনেও রেল অবরোধ করেন স্থানীয়দের একাংশ। জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। স্থগিত হয়ে যায় রেল চলাচলও অবশেষে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিঙ্ঘানিয়া গিয়ে দেখা করেন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে। তাঁর আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

    বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানান, মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ছাড়াও চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সাতদিনের মধ্যে পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ভিনরাজ্যে কাজ করা পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। তিনি জানান, আজ রাত ১২ টার মধ্যে কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে। এ ছাড়াও সমস্ত আইনি সমস্যার জন্যও লিগ্যাল টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। তিনি আরও জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পরিচয়পত্রের ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা করা হবে।

    জেলা শাসকের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ উঠলে দুপুর আড়াইটে নাগাদ সকাল ৮:২৬ মিনিটের লালগোলা প্যাসেঞ্জার ট্রেন বেলডাঙা স্টেশন ছেড়ে রওনা দেয়। তবে এখনও পর্যন্ত আপ ও ডাউন লাইন মিলিয়ে একাধিক ট্রেন থমকে রয়েছে। জানা গিয়েছে অবরোধের কারণে ডাউন লালগোলা-কলকাতা, ডাউন লালগোলা-রানাঘাট, ডাউন লালগোলা-শিয়ালদহ ট্রেন আটকে রয়েছে। অবরোধের জেরে দুপুর ২:৫১-র ডাউন লালগোলা-রানাঘাট লোকাল বাতিল করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, আপ রানাঘাট-লালগোলা, আপ কৃষ্ণনগর-লালগোলা আপ শিয়ালদহ-লালগোলা-সহ বেশ কিছু ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে বাতিল হয়েছে দুপুর ২:১৫-র আপ রানাঘাট-লালগোলা।

    জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানিয়েছেন, হেমন্ত সোরেনকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলে অভিষেককে আশ্বাস দিয়েছেন হেমন্ত।

    বেলডাঙ্গার পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীও। তিনি বলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন রাজ্যের বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা হয় নি। IG শৈলেন্দ্র কুমারের সঙ্গেও ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। IG-কে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)