SIR-এর শুনানি পর্বের মাঝেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফর্ম-৭। এই ফর্মের মাধ্যমে ভোটারদের নামের তালিকা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তালডাংরা বিধানসভায় বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে কয়েক হাজার এই ফর্ম উদ্ধার হয়। ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি ‘চক্রান্ত’ করছে বলে দাবি করে তৃণমূল। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সভা থেকে এ বিষয়ে ফের সতর্ক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি নেতারা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করলে ‘রবীন্দ্র সঙ্গীত’-এর পাশাপাশি ‘ডিজে’ শুনিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা অভিষেকের। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সবটাই করতে হবে শান্তিপূর্ণ ভাবে।
এ দিনের সভার মাঝেই কারা তৃণমূলের বুথ কর্মী হিসেবে কাজ করেন, সেটা জানতে চান অভিষেক। এর পরেই অভিষেক বলেন, ‘যদি বিজেপি নেতা ERO-র কাছে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে আসেন, রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি একটু ডিজে বাজিয়ে দেবেন ভদ্র ভাবে।’
উল্লেখ্য, SIR-এর ‘Claims & Objections’ অর্থাৎ কোনও দাবি এবং অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ডেডলাইন ছিল ১৫ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯ জানুয়ারি। অর্থাৎ, ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ফর্ম ৬,৭ ও ৮ পূরণ করা যাবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এখানেই সন্দেহ প্রকাশ করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি নেতারা সময়ের মধ্যে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেনি বলেই কমিশন সময় বাড়িয়েছে।’
তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে এ দিনের সভা থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, ‘১৬, ১৭, ১৮, ১৯ তারিখ ERO অফিসের বাইরে ক্যাম্প আছে। আমাদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। যদি কোনও ছোট-মাঝারি-বড় নেতা বা তাদের কার্যকর্তারা যায় ভোটারদের নাম ডিলিট করানোর জন্য, তা হলে আচ্ছা করে ডিজে শুনিয়ে দেবেন। তবে শান্তিপূর্ণ ভাবে। একটু রবীন্দ্র সঙ্গীতও চালাবেন। আইন বহির্ভূত কাজ করলে বিজেপি নেতার বাড়ি ঘেরাও করবেন। আসলে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এরা ভোট দিতেও দেবে না।’
এ দিনের সভাতেও তিন জন মৃত ভোটারকে নিয়ে হাজির করেন অভিষেক। বিজয় মালি, মঙ্গলি মান্ডি নামে দুই জন ভোটারকে হাজির করানো হয়। কমিশনকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) জন্য বাংলায় একটা প্রকল্প চালু করা উচিত। চোখের ছানি অপারেশন করার জন্যে প্রকল্পের নাম হবে ছানিশ্রী। এঁরা জীবিত ভোটারকে দেখতে পাচ্ছে না।’