আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিঃশর্ত দাবিতে SIR-এ সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নাম তুলতে হবে। যাদের ভোটার তালিকায় নাম ছিল, তাঁদের নাম সেই ভাবেই রাখতে হবে। SIR-এর নামে মানুষকে হয়রানি করা চলবে না।
এই সমস্ত একাধিক দাবি নিয়ে শুক্রবার সকলে সমুদ্রগড় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পারুলডাঙ্গা রেলগেটে রেল অবরোধে সামিল হলেন স্থানীয় এলাকার মানুষজন।
ভারতের নাগরিক সমাজ ও সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ এদিন এই রেল অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচিতে জড়ো হন। জিআরপি আরপিএফ-এর বাধা অতিক্রম করে এদিন রেল অবরোধ চালান মানুষজন। শুক্রবার ৭. ৫০ থেকে ৮. ০২ পর্যন্ত ডাউন হাওড়া-কাটোয়া লোকাল ট্রেন আটকান এলাকার মানুষ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কালনা জিআরপি এবং আরপিএফ। পরবর্তী সময়ে তাদের আশ্বাসে রেল অবরোধ সরিয়ে নেন বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে, এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে ফের ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায়। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। বিডিও দপ্তরে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হয়। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় ইসলামপুর থানার আইসি-র।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এসআইআর শুনানির নামে হয়রানির অভিযোগ তুলে চাকুলিয়ার কাহাটা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। অবরোধ তুলতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি শুরু করে। একসময় পুলিশকে কোণঠাসা করে বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিসে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিসের আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
এই হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র তছনছ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আশঙ্কা, এসআইআর সংক্রান্ত জরুরি ডেটা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে, যা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া ও আগুনের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়।
ঘটনার পরই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পুলিশ ও বিডিও দপ্তরের ওপর এই ‘সংগঠিত হামলা’র ঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) তথা জেলাশাসককে দ্রুত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেয়। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ থাকলে তা জানানোর নির্দিষ্ট ও সাংবিধানিক মঞ্চ রয়েছে। আইন হাতে তুলে নেওয়া, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস বা প্রশাসনের কাজে বাধা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।