• কমিশনের কাছে জমা পড়ল অমর্ত্য সেনের নথি
    আজকাল | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: নোবেলজয়ী ও ভারতরত্ন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ঘিরে এসআইআর সংক্রান্ত যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের অবসান ঘটল শুক্রবার। এদিন অমর্ত্য সেনের এসআইআর হিয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই হিয়ারিংয়ে অমর্ত্য সেনের পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা।

    জানা গিয়েছে, অমর্ত্য সেনের শুভাকাঙ্ক্ষী গীতিকণ্ঠ মজুমদার এবং নোবেলজয়ীর মামাতো ভাই শান্তভানু সেনের থেকে অমর্ত্য সেনের পাসপোর্টের ফোটোকপি, আধার কার্ড, তাঁর মায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র-সহ বিভিন্ন নথি জমা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০২ সালের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নথিও নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। হিয়ারিং চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা আরও জানতে চান, অমর্ত্য সেনকে যে ভারতরত্ন সম্মান প্রদান করা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট দেওয়া সম্ভব কি না। তবে ওই সার্টিফিকেটটি তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে যাননি বলেই জানা গিয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে গীতিকণ্ঠ মজুমদার জানান, প্রতীচী বাড়ির তরফ থেকে অমর্ত্য সেনের 'অথোরাইজেশন সার্টিফিকেট'-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি যথাযথভাবে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন নির্বাচন কমিশনকে অমর্ত্য সেনের ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্মানের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশন আগের অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কথা উপলব্ধি করেছে। গীতিকণ্ঠ মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অমর্ত্য সেনের বয়স সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই বিষয়টি নিয়ে প্রতীচী বাড়ির তরফ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিষয়টির সূত্রপাত হয়েছিল গত ৭ জানুয়ারি। সেদিন সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের তিনজন আধিকারিক শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়িতে উপস্থিত হন। যদিও কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কী উদ্দেশ্যে তাঁদের আসা, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সূত্রের দাবি ছিল এসআইআর সংক্রান্ত একটি কাজেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও প্রবল আলোড়ন তোলে।

    এর ঠিক আগের দিন রামপুরহাটের এক জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি প্রকাশ্যে একটি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচক হওয়ার কারণেই কি অমর্ত্য সেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে এসআইআর নোটিসের মুখে পড়তে হচ্ছে! সেই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

    এদিন হিয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবুও প্রতীচী বাড়িতে নথি গ্রহণ ও আলোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)