• বেলডাঙার এই মবের মাথা কে? মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন সাংবাদিক সোমা! দর্শক পুলিস, দোষীরা আদৌ শাস্তি পাবে...
    ২৪ ঘন্টা | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জি ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি সোমা মাইতি খবর সংগ্রহের সময় গুরুতর হেনস্তার শিকার হয়েছেন। SOMA জানান, চিত্র সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের ক্যামেরা বন্ধ করে নেওয়া হয়, ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আক্রান্ত প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় সিটি স্ক্যান হবে। অসহ্য যন্ত্রণা করছে মাথায়। ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। সারা শরীরে ব্যথা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা আরও বাড়ছে। চিকিত্‍সকরা বলেছেন, অ্যাডমিট হতে হবে। 

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি এটাকে সাপোর্ট করছি না কিন্তু মবের মধ্যে ঢুকতে বারণ করছি। এটা আমার হাতে নেই, আমি তো করাইনি ঘটনাটি জুম্মাবারে এমনি জমায়েত হয় প্রোগ্রাম করে, মন্দিরে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ যায় ভোলে বাবা পার লাগাও যায় দুর্গাপুজোয় যায় আমি কি তাদের আটকাতে পারি? এটা তাদের স্বতঃস্ফূর্ততা। খুবটা স্বাভাবিক যৌথ হাজার হাজার লোককে নোটিশ পাঠাচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, বিজেপি দাঙ্গা গুলো লাগাচ্ছে এর পেছনে গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার এজেন্সি আছে। আমি এটাকে নিন্দা করি তীব্র নিন্দা করি, আমি সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের কাছে আবেদন করব যারা করছেন শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের উপর ভরসা রাখুন আমরা তো আপনাদের সঙ্গে আছি সর্বধর্ম সমন্বয়ের সঙ্গে আছি সব মানুষের সঙ্গে আছি। কোনও সাংবাদিকদের গায়ে কেউ হাত দেবেন না সবার কাছে অনুরোধ থাকবে।'

    কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, 'খুবই নিন্দনীয় ঘটনা। আমি নিজেও গিয়েছিলাম। আমি যখন নিহতের বাড়িতে ছিলাম, তখনই শুনলাম মহিলা সাংবাদিকের উপর হামলা হয়েছে। পুলিসের সামনে এই ঘটনা হওয়াকে আরও নিন্দা করছি। পশ্চিমবঙ্গে স্বৈরাচারী সরকারি আমলে আজ যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, এটা তার প্রমাণ। সাংবাদিকের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারোর নেই। তৃণমূলের মদত ছাড়া এই ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে না।'

    জাতীয় মহিলা কমিশন সদস্য ডাক্তার অর্চনা মজুমদার বলেন, 'রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তার পুলিস যখন ‘ফাইল চুরি’ নিয়েই ব্যস্ত, তখন রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা। আজ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় চরম অশান্তি—রাস্তা অবরোধ, রেললাইন অবরোধ। ইন্ডি জোট-শাসিত ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। কর্তব্যরত অবস্থায় এক হিন্দু মহিলা সাংবাদিককে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক-নির্ভর দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। গঙ্গার তীর হোক বা পদ্মার পাড়—চিত্রটা একই। হিংসা। তোষণ। নীরবতা।'

    হুমায়ুন কবীর বলেন, 'আমি রাস্তা অবরোধ করতে নিষেধ করেছিলাম। ওরা ধৈর্য ধরেনি। অধীর রঞ্জন চৌধুরী ঘোলা জলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ব্রিগেডের জমি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে যদি পয়লা ফেব্রুয়ারি জমি না পাওয়া যায় তাহলে মুর্শিদাবাদে সভা হবে। ৫০ বিঘা জমির এনওসি নিয়ে সভা করব। পুলিস আমাদের অসহায়। সাংবাদিকদের কি প্রটেকশন দেবে। আমি কোনও সাংবাদিক আহত হোক, রাস্তা ব্লক হোক চাইনা। প্রশাসন আমার সহায়তা চেয়েছে। আমার কর্তাদের পাঠিয়েছি। তাদের বক্তব্য হুমায়ুন কবীরকে আসতে হবে। এই অশান্তি দাঙ্গা হাঙ্গামা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি লড়ে পারছে না তাই রাষ্ট্রপতি শাসন করানোর লক্ষ্যে এগুলো করছে।'

    তিনি আরও বলেন, 'আজকে বেলডাঙার ঘটনা এর স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়াস। আজকের ঝামেলায় আমার দলের লোকও আছে অন্য লোকও আছে। আমি মুর্শিদাবাদে থাকলে আধ ঘণ্টার মধ্যে এই মুভমেন্ট থামিয়ে দিতাম।'

    কেন এই উত্তাল পরিস্থিতি?


    ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বেলডাঙায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ। মৃতদেহ নিয়ে চলে অবরোধ। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। রেল লাইনেও অবরোধ। আটকে কৃষ্ণনগরগামী মেমু ট্রেন। ঝাড়খন্ডের বিশ্রামপুরে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন বেলডাঙার সুজাপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলাউদ্দিন সেখ। বৃহস্পতিবার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের দাবি, খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙার মহেশপুর  এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বেলডাঙা মহেশপুর আন্ডারপাসের কাছে রেল অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)